মাধবীলতা | (কমলার পূর্ব ভাগ)

বনদরশন হইতে উদ্ধত

টি

৮১ [১ শ্রীদকঈব চ্্র চট্টোপাধ্যায় প্রণীত।

নং ভবানীচরণ দত্তের গলি হইতে, গঁউমাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক. প্রকাশিত

টি

৬৭ নং মেযুয়াবাজার সীট, বীণাবনে

: প্র দেব হার! সুষিত। ২) ৯২৯১,

দয এক টাকা চারি আনা।

মাধবীরতা। টি |

তি কা মুখের যে অংশ ফু অধিবার, স্থল, তাহা.” রং স্বৎসিত হয়! এই জন্য সিংহপত্ বাল” 4 সিন ঈর্ষা *

উপন্যাস। «

একদা সিংহশত গ্রামে এক জন ধনবান বাস িরি- তেন। এক্ষণে সে গ্রাম নাই, দেরাজাও নাই, কেবল বৃহৎ বৃহৎ অষ্টাালিকার ছুই একটি ভগ্নাংশ পড়িয়া! আছে। ধনবানের শেষ চিন এইরূপ-প্রস্তরথণ্ড, ইষ্টকত্তপ। উপযুদ্, পরিণাম! বিক্রমাদিত্যের এক্ষণে দিংহদ্বারের এক তগ্রাংশ মাত্র আছে। কিন্ত গরিব কালিরাসের শতুন্তল! অদ্যাপি নবপ্রস্ফ,-. টিত কাননকুমের ন্যায় সদাস্ক) পূর্ণচন্ত্রের ন্যায় মনোহর . দিগন্তব্যাপী। মূর্ধের নিকট পকুস্তল! বৃখা। অদ্ধের নিকট টনুও মিথ্যা। বিক্রমারিত্য স্বর্সিংহাসনে, আর কাণিঘাল, নিয়ে, যোড় হস্ত। তুল।

সিংহশত গ্রামের শেষ রাজ! ইন্ভূপ পরাক্রান্ত ছিলেন. ৰঃ মান্য লোকের ন্যান়্ শাস্ত সরল ছিলেন। দেইএসরলক! হাঁর অনর্থের মূল হইয়াছিল। অতি প্রাচীনকাল অবধি বঃহের নিরম ছিল যে, জোট্ঠপুত্র বিষয়-মধিকারী হইবেন, রনির! . বল কিঞিৎ মাসিক পাইবেন এই . দিম, সঙ্গত হউক, হউক, রাঁজবংপের মধ ছইট নূতন বৈষম্য টাই

নাক নপর শাখা :.. খান্‌, অপর শাখা' কুত ,. পর এতাদৃশ প্রভেদ বিশ্বয়ঙ্জনক কিন্বু।..। ঘটিফাহিনযান অতুল এখর্ধ্যের অধিকারী হইবেন, তাহার জদন্তোষের কোন কারণ হিল না, গমকলেই তাহার আশৈশৰ সন্তোষ বিধান করিত। কিন্তু বিনি বি্ষয়বৈভব কিছু পাইবেন না, তিনি সদাই ভাবিতেন, “পিতার এত এরঙ্্য কি অপরাধে তিনি তাহাতে বঞ্চিত ? সামান্য প্রজার সন্তানের! পিতৃ-বৈভবে তুল্যাংশী, তিনি রাজপুত্র অথচ তাহার ভাগো কিছুই নাই!” ধাহার মনে সতত এই আলোঁচনা, সর্ধদ| স্তাহার ভ্র কুঝ্িত, সর্বদা! তাহার তীধ্যগ টি, সর্ধদ1 তাছার সন্তলগ্র, সর্বদা তাঁহার মুখ বিকট। মুখের উপর মনের আধি- . পত্য অতি চমত্কার; মনোবৃত্তি মাত্রেই মুখে আদিয়া উদয় হয়। কোন মনোবৃত্তির স্থান. ্রধুগ, কোনটির বা জযুগ নেত্র। কোন মনোবৃত্তির স্থান ও, কোনটির বা ও্ঠপার্্ও রাসা। এইরূপ রাগ, ঈর্ষা, শৌক, আহ্লাদ গ্রভৃতি যে কোন মনোবৃত্তি হউক, মুখের কোন অংশ না কোন অংশ অধিকার করিয়া থাকে। যে মনোবৃত্তি সর্বদা উদয় হয়, ভাহার অধিকা র-স্থল ক্রমে পুষ্টিলাঁভ করে। মুখের সেই অংশ ক্রমে এত স্পষ্ট হয় যে, গ্রথমেই সেই অংশের প্রতি দৃষ্টি গড়ে। সে মনেবৃত্তি তখকালে মনে উপস্থিত থাক্‌ বা না থাক্‌, ছু স্কাছার চিহ্‌ রহিযাঁছে। এই জন্য.দেখিবামাত্র জান! যায় 0] কাহার মুখে কোন বৃত্তির গতিবিধি অধিক। এই 11 হ্বভাবতঃ উগ্র, এই লোক স্বভাবতঃ শান্ত, এট লোক ইরান যে অন্ভব হয়, তাহার কারণ অপর কিছুই নাই।

মাঁধবীলতা।

কুপ্রবৃত্তি, কুৎসিত। মুখের যে অংশ কুপ্রবৃত্বির অধিকার- স্থল, তাহা পুষ্ট হইলে, মুখ কুৎসিত হয়। এই জন্য সিংহশত রাজবংশের এক শাখা কুৎসিত ছিলেন। ঈর্ষা, বৈরক্তি, অস- স্তোঁষ প্রভৃতি বৃত্তি সর্ধবদ1 তাহাদের মনে জাঁগিত।

নজ্জন ব্যক্তিরা সুশ্লী। সতপ্রবৃত্তি মনে প্রবল থাকিলে মুখ সুশ্রী হয়। ধাহারা 'অসজ্জনকে স্ুত্রী। দেখিয়াছেন, তাহা- দের ভ্রম হইয়াছে শ্রী কথন মুখের অংশ নহে, অন্তরের অংশ অবস্থান্ুসারে গ্রকৃতি। প্রকৃতি হইতে আকৃতি।

ইন্দরতৃপ স্বয়ং সর্বদা সন্তুষ্ট $ সকলকে সন্তষ্ট করিতে চেষ্টা করেন, কেবল জ্ঞাতিদের পারেন না। তিনি তাহাদের সব্বস্থ লইয়াছেন, কেন তাহারা সন্তুষ্ট হইবেন? জ্ঞাতিদের নিকট ইন্দ্রভূপ অধার্ট্িক, অবিবেচক, অত্যাচারী, কেবল এক জন জ্ঞাতি ইন্ত্রভূপের প্রশংসা করিতেন, সর্বদা তাহার অনুগত থাকিতেন। তাঁহার নাম চুড়াধন বানু। তিনি যৎ্পরোনান্তি মিষ্টভাষী, নত, শান্ত এবং নির্বিরোধী ছিলেন, তাহাকে ইন্ত্রভূপ বিশেষ ভাল বামিতেন। হিনি কাহাকেই ব। ভাল ন! বামিতেন?

চুড়াধন বাবু বড় দাবধানী ছিলেন। আপনি কখন রাজসন্ুখে কোন কথাই উত্থাপন করিতেন না। মহারাজ কোন কখা। জিজ্ঞাসা করিলে সসম্মানে নতশিরে কেবল সেই কথারই উত্তর দিতেন, কখন নিজের মত জানাইতেন না। সাধারণের মত কি, অন্যের মত কি,দেওয়ান মহাশয়ের মত কি, আবশ্যক হইলে কেবপ, তাহাই জাঁনাইতেন ইন্রতূপ তাহাতেই জ্তষ্ট হইতেন ) ভাবিতেন চুড়ধন বড় বিজ্ঞ।

রাজা ইন্্রূুপ আহার করিবার সময় নিত্য বহুজনপরিবেষ্টিত হইয়া আহার করিতেন। অতি উপাদেয় সামগ্রী নানা দেশ

মাধবীলতা |

হইতে সংগৃহীত হইত কিন্তু পরিচারকগণ দেখিত, চুড়াধন বাবু সে সকল কিছুই স্পর্শ করিতেন না,বাছিয়! বাছিয়। কেবল অপ- কৃষ্ট সামগ্রী আহামি করিতেন আহারান্তে ইন্ত্রভূপ প্রত্যহ নিয়মিতরূপে কোন ন! কোন সংস্কত মূলগ্রস্থ শ্রবণ করিতেন, রাঁজমভাঁয় কথন ভগবদগীতা, কখন যোগবাশিষ্ঠ, কখন রামায়ণ, কথপ্স মহাভারত পাঠ হইত। শ্রোতার! সকলেই সংস্কৃতজ্ঞ ব্যাখ্যার আর প্রয়োজন হইত ন1। এই সময়ে যে কথাবার্তা আবশ্ঠক হইত, তাহা সমুদয় সংস্কৃত ভাষায় হইত। ফল এই ড়াইয়াছিল যে, ইচ্ছা হইলেও বড় কেহ কথা কহিতে পাইতেন ন1, কাজেই নির্কিদ্বে পাঠ হইত কিন্তু রামায়ণ কি মহাভারত পাঠকালে নিয়ম বড় খাটত না। অন্ধমুনির বিলাপ, সীতার বিলাপ বা! দশরথের বিলাপ বা! তদ্বৎং কোন অংশ পাঠ হইতে আরস্ত হইলে, প্রথমে সকলেই নম্পন্দ হইয়! শুনিতেন, ভ্রম সকলের হৃদয় যখন পূর্ণ হইক্ উঠিত, তখন হয় কোন শ্রোতা আর শোকসম্বরণ করিতে অসমর্থ হইয়। কুষ্ঠিত ভাঁবে নিঃশ্বাস ফেলিতেন, অমনি নিকটেই সজোরে নস্যগ্রহণের ছুই একটা শব্দ হইত, তাঁহার পরেই চারি-. দিকে উপযুযপিরি নস্য গ্রহণের তুমুল শব্ধ হইয়] উঠিত। কেবল নাসার দীর্ঘ শব। এই একরপক্রন্দন। অধ্যাপকের ক্রন্দন শেষ হইতে ন] হইতে ইন্্রভূপ স্বয়ং কম্পিতকে শোক প্রকাশ করিয়া ফেলিতেন, তাহার পর কথা কহিবাঁর আর ৰাধা থাকিত না, প্রথম ছুই একটি' সংস্কত, পরেই বাঙ্গালা চলিত। তখন সকলেই কথা কহিতেন; কেবল চুড়াধন বাবু নিস্তব্ধ থাকিতেন। রামায়ণ, মহাভারত তাহার ভাল লাগিত না; লোকের কেন ভাল লাঁগে, তাহাও তিনি অনুভব করিতে গারিতেন না। এক. দিন তিনি দেওয়ান মহাশয়কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন,“আপনি

মাধবীলতা ! *.. ধ.

কোন দিন রামারণ শুনিতে বসেন না কেন? দেওয়াঁন্‌ উত্তর করিলেন, “রামায়ণ কন্নাশা, একদিন গুনিলে, ছুই দ্রিন কোন কণ্ম করিতে পারা যায় না। চুড়াধন একটু হাদ্দিলেন, তীহাঁর বিকট দত্ত দেখা গেল। তাহ! দেখিয়া দেওয়ান্‌ মহাশয়ের এক জন পরিচারক ভাবিল,পঈদাত ছড়ান যদি হাসি হয়, তাহা হইলে শৃগালেরও হালি আছে ।+”

বাস্তব সকল হাসি, হাসি নহে। সকলে হাসিতে পারে না অনেকে আবার হাঁসিবার অধিকারীও নহে। অথচ সকলেই হাসিতে যান, হাসিতে কাহার না সাধ? হাসি দেখিলে হাসি. পায়, কিন্তু যে ব্যক্তি হাদিতে অনপিকারী, তাহার হাসি দেখিলে কেহ হাসে না, বরং ভর পায়। স্্থীরা হাসিতে জাঁনে, সরল উদ্দার ব্যক্তির! বিলক্ষণ হাসিতে পারে, প্রণয়ীরা চমত্কার হ'নে শোকাকুল ব্যক্তিরা ন্লান হাসি হাসে,বেন অন্ধকার ঝড় বৃষ্টিতে দীপ-আালোক পড়ে, কিন্তু কুটিল শ্যক্তিরা হাসিতে পারে না; তাহাতেই পরিচারক চুড়াধন বাবুর হাধিকে “দাত ছড়ান”, বিবেচনা করিরাছিল।

চুড়াধন বাবু. প্রায় রাজবাটীতেই সময় অতিবাহিত করি- তেন। কোন কার্যের বিশেষ ভার ছিল না, তথাপি তিনি প্রত্যুষে আমিয়া রাজদ্বারে দাড়াইয়] থাকিতেন, ইন্ত্রভূপ বহির্গত হইলে সঙ্গে সঙ্গে পুষ্পোদ্যানে বেড়াইতেন, নিতান্ত নিকটে যাই- তেন না, অথচ এমত দূরে থাকিতেন, যে অন্যের কথা যদিও একান্ত না শুনিতে পান, তথাপি রাজার উত্তর শুনিতে পাইবেন ধিনিই যত মৃদুত্বরে কথ] বলুন, রাজা উচ্চৈঃম্বরে তাহার উত্তর দিতেন। ইন্দ্রভূপ কখন মৃছুম্বরে কথ! কহিতে পারিতেন ন!. ধিনি মৃছুম্বরে কথা কহিতে পারেন না। তিনি আবার প্রায় কোন কথা, গোপন করিতে পারিতেন ন; কথা অ]পনধরই

মাধবীলতা

হউক, পরের হউক, সকলের সম্মুখে মুন্তকণ্ঠে তাহা আলোচনা করা তাহার অভ্যাস হয়। পুষ্পোদ্যান হইতে ইন্ত্রভূপ যখন' বিষয় কার্ধ্য করিতে যা, তেন, চুড়াধন বাবু দেই অবকাশে রাজভূত্য পরিচারকদিগের সহিত মিষ্টালাপ করিতেন; কখন বা অধ্যাপকদের সহিত শান্ত্ীয় কথ! লইয়া তর্ক করিতেন “নানাশাস্ে তাহার বিলক্ষণ অধিকার'ছিল। পণ্ডিতের] তাহার ভূরিভূর গ্রাশংসা করিতেন, অপর সকলে তাহার সন্থ্যবহার সম্বন্ধে প্রশংসা করিতেন, কেবল একা দেওয়ান্‌ মহাশর বিষয়ে নি্তন্ধ থাকিতেন। রাজা সর্বদাই চুড়াধনকে মিষ্ট সম্ভাষণ করিতেন, সর্বদাই সন্জ্র রাখিতে যত্র করিতেন। ইন্ত্রভূপ ভাঁবিতেন, যে চুড়ধন বাবুর পিতা রাজ্যাধিকারী হইলে চুড়াধন কতই স্ঈথভোগ করিত » অতএব যাহাতে সে অভাব চুড়াধন অনুভব করিতে না পান, রাজা সতত সেই চেষ্টায় থাকিতেন,কিস্তু অর্থন্থকুল্যের দ্বারা সে অভাব পূরণ করিতে পারিতেন না। দেওয়ান তাহাতে কোঁন গতিকে না কোন গতিকে ব্যাঘাত ঘটাইতেন। দেও-

যানের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, যে চূড়াঁধন বাবুর অর্থীভাঁব রাঁজার পক্ষে মঙ্গল |:

দেওয়ানের বৈরিত্ব চুড়াধন বাবু জানিতেন ; কিন্তু সে জন্য দেওয়ানের সহিত অসদ্ধ্যবহার করিতেন না, বরং তাহার ভূয়সী গ্রশংসা করিতেন। সকলেই দেখিত, স্বয়ং ইন্দ্রভূপ দেখিতেন যে চুড়াধন বাবু দেওয়ানের বিশেষ মঙ্গলাকাজ্ী এক দিন অকস্মাৎ দেওয়ানের গৃহদাহ হয়, চুড়াধন বাবু ততক্ষণাঁৎ সর্ধবাগ্রে যাইয়া দেওয়ানকে উদ্ধার করেন; সকলেই চুড়াঁধন বাবুকে ধন্যবাদ দিয়াছিল, কিন্ত দেওয়ান দেন নাই ; সেই জন্য সকলেই দেওয়ানের নিন্দা করিত, দেওয়ান স্বাহ শুনিয়া কোন উত্বর

মাধবীলতা

করিতেন নাঁ। কেবল একবার পুত্রকে নির্জনে ভাকিয়! বলিয়াছিলেন, “গুহদাহ বিশ্মরণ হইও না।» "

পুজ। কেন?

দেও। তাহা হইলে যে দাহ করিয়াছে, তাহাকে তৃলিবে।

পুল্র। কে দাহ করিয়াছিলেন ?

দেও। চুড়াধন বাবু॥

পুভ্র। তিনি আপনাকে উদ্ধার"করিয়াছিলেন।

দেও। উদ্ধার করিবেন বলিয়াই বিপদ ঘটাইয়াছিলেন।

পুর নার কোন উত্তর না করিয়! দাড়াইয়। রহিম দেওয়ান্‌ রাভব টীতে গেলেন, তথায় যাইয়া দেখেন, চুঁড়াধন বাবু কয়েক জন বৃদ্ধ অধ্যাপক-পরিবেষ্টিত হইয়া বক্তৃতা করি- 'তেছেন। চুড়াধন বাবু স্বভাবতুঃ তল্প ক] কহেন, ভাহাঁও ৃছুক্গরে ; এক্ষণে তাহার অন্যথা দেখিয়া দেওরান্‌ মহাশর এই দিকে গেলেন। অন্য কর্ষুচ্ছলে কিঞ্চিৎ দুরে থাকিয়া শুনিতে লাগিলেন। দেওয়ানের সমাগমে চুড়াধন বাবুর স্বর ঈষৎ উচ্চ হইল, দেওয়ান তাহ] বুঝিলেন। চুড়াধন বাবু বলিতে লাগিলেন--পপুভ্রের কুচরিত্র কেবল পিতার দোষে ঘটে» নির্বোধ পিতারা সকল কথাই পুভরকে বলে, পুত্রকে সাবধান 'করিতে গিয়া আপনারা অসাবধান হয়। বিজ্ঞতা শিখাইৰে মনে করিয়া কুটিল1 শিখায়। উপকার করিলে যাহারা উপ- কৃত বোধ করে না, তাহারা! আপনারা অপকার করিতে ন! পারিয়। সন্তানের উপর ভার দিয়া যায়।”

দেওয়ান আর গুনিলেন না) কর্মীস্তরে চলিয়া গেলেন। যাইতে যাইতে একবার এক জন পদান্তিককে জিজ্ঞান। করি- লেন, “আমার শিবিকার সহিত কে আদিয়াছিল?”

মাধবীলতা।

দেও। আমার গান্ধীর পুর্নে আর কেহ রাজবাটীর দিকে দৌঁড়িয়া আসিয়াছিল? |

পদা। কই কাহাকেও দেখি নাই।

দেও। আশ্যরধ্য

দেওয়ান মহাশয় মুখে দাশচরঘ্য” শবটি মাত্র উচ্চারণ . করিলেন, কিন্তু শুস্তরে অনেক কথা আলোচন] করিলেন, কিন্ত কিছুই স্থির করিতে পারিলেন না।

চঃ

এই"দিন ঢুড়াধন বাবু অনেক রাত্রি পর্য্যন্ত রাঁজবাটাতে ছিলেন। অন্য দিন প্রায়ই সন্ধ্যার পর বাটী যাইতেন। যাই- বার সময় কিঞিৎ দ্রুত পদবিক্ষেগে যাইতেন ; লোক বলিত, দই চূড়াধন বাবু প্রদীপ নিবাইতে যাইতেছেন। বাস্তবিকঃ সে কথ! কতকাংশে সত্য গৃছে তাহার প্রতীক্ষায় অনর্থক প্রদীপ ন। জলে, অনর্থক তৈল নষ্ট না হয়, ইহা তাহার সাংসা* রিক বন্দোবন্তের কথা বটে তাহার যে নিতান্ত দৈন্দশা ছিল, এমত নহে। গৃহে দাঁস দাসী ছিল, দ্বারপালও ছিল। কিন্তু তাহা বলিয়। অনর্থক তৈল নষ্ট কেন হইবে? এই জন্য গৃহে প্রদীপ বড় জ্বলিত ন1।

তাহার গৃহ দেখিলে কোন ধনবান্‌ বা রাজগোষ্ঠী কাহারও বাসস্থান বলিয়া বোধ হইত না। গৃহট উষ্টকনির্মিত বটে, কিন্তু বড় ক্ষুদ্র তগ্গোনুখ» অথচ জীকজমক আছে। চারি দিকে কার্ণিসের নিয়ে বিবিধ প্রকার পক্ষী, অশ্ব, গজ, সেপাই শান্তি কানে অস্ষিত রহিয়াছে--দেখিলে ঢাকাই ষাটা মনে

মাধবীলতা | ১৯ গু আইসে। গৃহাভ্যন্তরে বাযুপ্রবেশের পথ বড় ছিল না; তৎ"

কালে গবাক্ষের আকৃতি পরিবর্তন হইয়! অতি ক্ষুদ্র ক্ষুত্র চতু- ক্ষোণ ঝরক! প্রচলিত হইয়াছিল, চুড়াঁধন বাবুর বাটাতে তাহার ছুই তিনটি মাত্র ছিল। বাটার মধ্যে ব! পার্খে কোথাও পুষ্পো- দ্যান ছিল না; তৎকালে গৃহস্থের পক্ষে ইহ! ধঙ্প্রবিকদ্ধ বলিয়া নিন্দা হইত একবার এক জন বুদ্ধ ব্রাহ্মণ ভিক্ষার্থে আসিয়া! €ভিক্ষাং দেহি,” বণিয়! দ্বারে দাডাইল),পরে ইতস্ততঃ অবলোকন করির1 দেখিল বে, গ্রহে কোন পুষ্পবুক্ষ নাই, অতএব তৎক্ষণাৎ ফিরিল। গৃহিণী স্বয়ং ভিক্ষা লইয়া আসিলেন, ভিক্ষুক তাহা গ্রহণ করিল না, বলিল১ “মাওঃ, তোমার ভিক্ষা আমি লইব না।. পুপ্পোদ্যান নাই দেখিয়] বুঝিয়াছি যেঃ তোমার গৃহে নারায়ণ নাই ।১

ভিক্ষুক বদি আর কিঞ্চিত দীড়াইয়া পর্যবেক্ষণ করিত, তাহ! হইলে বলিত, “তোমার গ্রহে কোন" পালিত পক্ষী নাই, বোধ হয় চ্টোমার কোন সন্তান সন্ততি নাই, আমি ভিক্ষা লইব না, নিঃসস্তানের ভিক্ষা! অশুচি।” চুড়াধন বাবু বাস্তবিক নিঃসন্তান ; গৃহে আপনি আর গৃহিণী বাদ করেন। পুক্রবতী হইলে স্ত্রী জাতির যে কোমলতা জন্মে সর্বলোকে যে ন্সেহ বা হে দয়া জন্মে, তাহা তাঁহার গৃহিণীর একবার জন্মে নাই। চুড়াধন বাবু জানিতেন ধ্য, তাহার শ্রী অন্ঠিশয় দরাময়ী, স্সেছমরী এবং একবারে স্থার্থপরতাশৃন্য চুড়াধন বাঁবু সকল বিশেষ দোষ জ্ঞান করিতেন, এবং এই জন্য মধ্যে মধ্যে গৃহিণীকে এৃতিরস্কার করিতেন, তথাপি গৃহিণী রাত্রিকালে স্বামীর ভোজন-পাত্রের নিকট পা ছড়াইয়! বসিয়া! নিজের স্নেহ, দয়ার নান! পরিচয় দিতেন। তাহার একটি কগাও প্রকৃত নহে, কিন্তু চূড়াঁধন বাবু সকলগুলিই প্রকৃত মনে করিতেন, চুড়াধন বাবু এদিকে অসা

ছি 1 মাধবীলতা।

ধার বুদ্ধি ছিলেন, সকলের অত্তরস্থল পর্যযস্ত দেখিতে পাই তেন, কিন্ত আগনার স্ত্রীর নিকট অন্ধ হইতেন, তাহার চাতুরী- কোশল কিছুই.বুঝিতে পারিতেন ন1। গৃহিণী বিশেষ বুদ্ধিমতী ছিলেন না, গ্রাতিবাসীদিগের অভিসন্ধি কিছুই অনুভব করিতে পারিতেন না? কিন্তু ভিনি চূড়াধন বাবুর অত্তস্তল পর্যস্ত দেখিতে পাইতেন, বুঝিতেও পারিতেন। যে রাত্রে চুড়াধন বাবু দ্রতপাদবিক্ষেপে বাটী আসিতে- ছিলেন, সেই রাত্রে ত!হার বাটাতে ছুই জন লোক বসিয়। তাহার নিমিত্তে অপেক্ষা করিতেছিল। চুড়াধন বাবু তাহাদেরঃ দেখিয়া মহা-আহ্ন'দ প্রকাশ করিলেন, অর্থাৎ বাক্যের দ্বার! প্রকাশ করিলেন। তাহার পর একত্রে বনিরা অতি নিয়স্বরে পরস্পর অনেক কথাবান্তা হইল। শেষ উঠিঝার সময় চুড়াখন বলিলেন, “এইবার বুঝিব তোমর] ঞ্মেন জাল ফেলিতে পার।” তাহাদের মধ্যে এক জন'উণ্তর করিল, “.জলে আপনি আমর! মাত্র জেলের হাড়ি, আনরা! সঙ্গে সঙ্গে ফিরিব |” এই ছুই জনের মধ্যে এক জনের নাম জনার্দন আর এক জনের নান কালিগ্রসাদ।

১)

রাজ-ম্নুগৃহীত ব্যক্তির মধ্যে এক জনের নাঁম পীতান্বর ছিল, লোকে তাহাকে পিতম পাগলা বলিত। পীতাম্বরের কোথ। জন্ম, সে,কাহার সন্তান, তাহ। কেহ জানে না। প্রবাদ ছিল যে, যখন চল্িশ বৎসর বয়ঃক্রম, তখন পিতম চেলেধরার ভয়ে গলাইয়া শাস্তিশত গ্রামে আসিয়া! আশ্রয় লয়। “কে

মাঁধবীলতা ৭. ১১

পিতা ছিল” জিজ্ঞানা করিলে পিতম নত্রমুখে মাথা নাডিয়া বলিত, “জানি না, “কে মাতা ছিল ? জিজ্ঞাস! করিলে গম্ভীর ভাবে রাজার একটা বড় হাতী দেখাইয়া! দ্রিত। *

পিতম প্রায় সর্বদাই বিমর্ষ থাকিত। পথে বাঁলকদের খেলিতে দেখিলে আর সেরূপ থাকিত না তখন পিতম অন- বরত কথা কহিত, অন্যকে না পাঁইলে একাই কথা কহিত, কথন কখন গীত পর্যন্ত গাইত। লোকে ৰলিত, পিতমের গীত গুলি অতি আশ্চর্ঘ্য। কিন্ত গাইতে বলিলে পিত বড় গোলে পড়িত, একটি গীতও আর তাঁহার ম্মরণ হইত ন1।

প্রথম অবস্থায় পিতমের স্মরণশক্তি একেবারে ছিল না। লোকে যে তাহাকে পাগল ভাবিত, তাহার এই এক বিশেষ ক্কারণ ছিল। ভাষা শ্মরণ হইত ন1 বলিয়া অনেক সময় পিতম কথার উত্তর পর্য্যন্ত দি্তে পারিত না লোকে ভাবিত পাগল, এই জন্য উত্তর দিত না। * আবার, কথা কহিলে এক শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ মুখে আমিত। পিতম মনে করিত, প্রকৃত শব্দ ব্যবহার করিতেছি, কিন্তু লোকে হাসিত দেখিয়া পিতম আশ্চ্য্যান্বিত হইত। পিপাঁসা পাইরাছে, পিতম বলিবে *জল খাব” কিন্ত জল শব্দের পরিবর্তে “হাতী”” শব্দ মুখে আসিল, পিতম বলিল “হাতী খাব।” লোকে হাপিয়৷ উঠিল। জলের পরিবর্তে 'হাতী, খাইতে চাহিয়াছে ইহা পিততম কোন মতে বুঝিতে পারিত না; পুনঃ পুনঃ সেই ভুল করিত। লোকে জিজ্ঞাসা করিত, “কি থাবে ?” পিতম আবার বন্পিত, "হাতী থাব,, লৌকে আবার হাসিত আবার জিজ্ঞাসা করিত, আবার হাসিত। পপ

সাধারণে পিতমের প্ররুত অবস্থা নাতি না।, পিতমের স্মরণশক্তি নাই, তাহার! ভাবিত, পিতমের জ্ঞান নাই পিতম

58. £ 'মাধরীলতা। |

ভুলিত, লোকেরাও ভূলিত। পিতমের ভূলে লোকের রহস্য বাঁড়িত, লোকেয় ভুলে পিতমের রাগ বাঁড়িত। .পগিলের রাগ বাড়িলে লোকের আহ্লাদ বাড়ে। ছূর্ভাগ্য পিতম জালাতন হইয়! মধ্যে মধ্যে স্থান ত্যাগ করিত কিন্তু কিছু দিন পরে আবার ফিরিয়া আদিত। সকল প্রথম অবস্থার কথা .

একদিন অপরাহ্ছে রাজ! ইন্ত্রভূপ কয়েক জন অমাত্য সমভিব্যাহারে পণ্ড শাল1 পর্যবেক্ষণ করিয়! বেড়াইতেছেন। পক্ষীদের কলহ শুনিতেছেন,। বানরকে কদলী দিতেছেন, তল্নুককে তিরস্কার করিতেছেন, বনসানুষকে কুশলবার্তা জিজ্ঞাসা করিতেছেন, ব্যাপ্রকে বনের সংবাদ দ্িতেছেন, এমতি সময় "কজন গশ্চাৎ হইতে বলিল, “বন পেক্ষ! আপনার গৃহ ভাল, আমি গৃহস্থ হইর,* আর বনে রনে বেড়ইতে পারি না, এই গৃহে আমান স্থান দান করুন, আমি বাঁপ করি

রাজা জিজ্ঞাস| করিলেন, “কে এ.ব্যক্তি?” একজন সঙ্গী স্বলিল, “পিতম পাগ্ল1।” রাজা কখন পিতমকে দেখেন নাই, দেখিবাধাত্র কাহার দয়! হইল পিতমের অঙ্গে বন্থতর বেত্রা- ঘাতের চিহ্ন. রহিয়াছে। কোন কোনটা রক্তোস্থুখ। -রাজ! স্মক্ুলিনির্দেশ করিয়! জিজ্রানা করিলেন "এ চিন্ধ :কিব্ূপে হইল?” পিতম চিহ গুলি একবার দেখিল, হাসিল, কোন উত্তর কর্ধিল ন1। রাজা আঁবার জিজ্ঞাসা করিলেন। পিতম বলিল, “মহারাজ, য়ে দিনে আমি প্রেটে না খাই দে দিন আমি পিটে থাই” সকলে হাসিয়া! উঠিল। রাজা গম্ভীর হইলেন, ,বলিলেন “আমি বুঝিতে পারিলাঁম না। স্পষ্ট করিয়া বস?” পিতম বলিল, “পেট ছআঁমার, পিট পরের।. হাভীরও তাই, খঘোড়ারও তাই, গরুর তাই, গাঁধারও তাই, পেট আপনার “পিট পরের। নাঃনা, ঠিক:তা নর, ভূলেছি। : আমার দে,

মাঁধবীলতা। . *

শ্বকটু প্রভেদ আছে গোর আঁর মানুষ সমান নয় গোঁরুকে যে আহার দের, সেই তার পিঠ দখল করে। আমায় যে আহার দেয় না, সেই আমার পিঠ দখল করে, বে আহার দেয় সে আদর করে। এই গ্রভেদ, বুঝেছেন ? এখন আমি গৃহস্থ হব।” একজন ভট্টাচার্য্য বলিলেন, গ্গৃহস্থ হুইতে গেলে বিবাহ কর! চাই, এক্ষণে বিবাহ করিতে হয়|” পিতম। বিবাহ আমি অনেক দিন হইল করিয়াছি। রাজা কোথায় বিবাহ করিয়াছ, কে তোমার স্ত্রী? পিতম। জগন্নাথক্ষেত্রে বিবাহ করিয়াছি। তথায় গিয়। এক আশ্চর্য সুন্দরী দেখি পৃথিবীর সকলের অপেক্ষা সুন্দরী সমুদ্রের তুলনা! নাই। আমি থাকিতে ন৷ পারিয়া তাহাকে বিবাহ করে ফেলি। রাঁজা। সমুদ্র কি বড় হগব্দরী ? পিতম চমৎকার জন্দরী ! রামধনুকে শ্যামাীর কটি- বন্ধন। এইজন্য তাহার যে বাঁহার ত) আঁর কি বলিব। স্ন্দরী অনবরত হেলিতেছে ছলিতেছে আর খিলখিস্‌ করিয়! হাসিতেছে। রাঁজা। কিন্ত তোঁমার স্ত্রীর কুল নাই? পিতম।* কিন্ত বড় ঘরের মেয়ে। যে তার কাছে স্থান পাক, সেই বড় হয়। দেখুন, চন্দ্র তুর্ধয এখানে কুত্র, কিন্ত যখন আমার স্ত্রীর পারে উদয় হয়, তখন জার এক মুর্তি, তখন ুর্ঘ্য কত প্রকাণ, কত মহৎ, কত সুন্দর দেখায়, সে সকল কিছুই চন্দ্র হুর্স্যের গুণ নহে, সকলই আমার হুন্দরীর গুণ। আহা, তাহার কত রূপ, সে কত নির্দল, কত গন্ভীর, ভাহার কি দয়া, কি স্নেহ, সকলকে বুকে করে বহিতেছে! হ্‌

সঃ মাধবীলতা |

রাজা তোমার স্ত্রীকে ফেলে কেন এলে?

পিতম। ' সে অনেক কথ! আমি তার রূপে ভূলিলাম, একে একে আমার সর্বস্ব দিলাম, আমার হ'কা কলিকাটি পধ্যন্ত তারে দিলাম কত আদর করিলাম, কত কথা৷ কহি- লাম। প্রেমোনমত্ত হইয়। শেষে এক দ্দিনর্বাপ দিলাম, কিন্তু পে আমায় নিলে ন। যতবার আমি তার অঙ্গে পড়িলাম, তত বার সে আমায় ছুড়ে দূরে বালিতে ফেলিয়া দিল। আর আমি কত সহ করিবল। আমি উঠে গালি দিলাম, ঝগড়া করিয়। চলিয়া আনিলাম। সে অতি পাজি, স্বার্থপর; কেবল লোকের সর্বস্ব লবে আর লুকাইয়া রাখিবে। রত্ব বল, পল! বল, আপনি এক দিনও পরিবে না। তবে লোকের সর্বন্ব লয় কেন ? তোমাদের স্ত্রীর হাতে পার আছে, কিন্ত এর কাছে আর পার নাই। বাঞ্গালীর মেয়ে বড় জোর ঘর ভাঙ্গে, পাহাড় পর্ধত ভাঙ্গে আর অন্তরের ভিতর তাহার যে কি আছে তাহা কে বলিতে পারে। উপরে হাসিতেছে, খিল খিল করে হাসিতেছে কিন্তু তাহার ভিতরে যাহা আছে তাঁহ1! আমিই জানি। তাই একবার একবার দয়] হয়, বলি আমি যদি কাছে থাকিতাম, তাহ! হইলে হয় এত যন্ত্রণা তার হত না হাজার হউক আমি পুরুষ।

এক জন পারিবদ এই সময় পিতমকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুমি যে রাগ করিয়া আসিলে সমুদ্র তোমায় সাঁধিল না ?*

পিউম। না, তবে যখন আমি একান্ত ফিরিলাম না দেখিল, তখন হা ছতাঁস করিতে লগিল, আমি কত দূর পর্য্য্ত তাহা শুনিতে শুনিতে আমিলাম। লোকে বলে বিরহ-যন্ত্রণায় সমুদ্র অদ্যাঁপি হু হু করিতেছে।

পারিষদ আবার ফিরে যাও।

মাধবীলতা |

পিতম। আর না। আমার আর যাইবার শক্তি নাই, বুড়া হইয়াছি, আনি এইখানে এই বাঘের পাশের ঘরে থাকিব! মহারাজের অনুমতি হইলেই হয়।

রাজা না, আমার অতিথিশাঁলায় চলঃ তথায় তোমার বন্দোবস্ত করিয়। দিব, সকলে যত্বু করিবে কোন কষ্ট হবে ন1।

পিতম। অতিথিশাল। দরিদ্রের নিমিত্ত, আমি সেখানে যাইব না। আমায় এই খানে স্থান দ্রিন, ব্যান্ব সিংহের সঙ্গে থাঁকিলে আমার সম্মান বাড়িবে। আর কেহ তাড়না করিবে না।

রাঁজা। সম্মান চাঁও, তবে আমার সঙ্গে আইস, যাহাতে লোকে তোমাকে সন্মান করে, তাহা বি করিব। এখানে তুমি স্থান পাইবে না।

পিতম তাহাতে অসম্মত হইল, *শেষ অতি মিনতি করিয়! ব্যাঘ্বের পারে স্কান লইল।

পণুশালা হইতে রাজা ইন্দ্রভূপ বাহির হুইয়া জিজ্ঞাস! করিলেন, পপাগলটির নাম কি” ভুলিয়া গিয়াছি।” একজন পারিষদ উত্তুর করিলেন, পপীতাশ্বর রাজা! অন্থমনস্কে কতক দুর গিয়া পশ্চাঁৎ ফিরিয়! ঈ্াড়াইলেন। সঙ্গীদিগের প্রতি চাহিয়! কি পরে বলিলেন, “কি আশ্চর্য্য পাগল 1” সকলেই একবাকো বলিলেন, “আস্ঞা ।” কেবল চুড়াধন বাবু কোন কথাই বলিলেন নাঁ। রাজা আবার কতক দূর যাইতে যাইতে ঈাড়াইলেন। সঙ্গীগণের দ্রিকে ফিরিয়া বলিতে লাগিলেন, *যে এত স্থান থাকিতে বাঘের পার্খে বাস করিতে চাহে, তাহার অপেক্ষা পাগল কে, পাগল কেন বাঘকে এন ভালবাসে ?* এই সময় এক জন পশ্চাৎ হইতে বলিল, “পিতম এক নহে, মহাঁরাজও বাঘ ভাল বাসেন। দেখুন আপনার লাঠির মাথায়

5 মাধবীলতা

কার মুখ? বাঁঘের।” ইন্ত্রতূপ আগন্তকের প্রতি ন! চাহি! প্রথমে লাঠির প্রতি চাহিলেন। আগন্তক বলিতে লাগিল, “মহারাজ! মুখখানি সোণার। বাঘ আপনার নিকট সোণামুখী ।*

সকলেই ফিরিয়! দেখিল, পিতম পাগল! আসিয়াছে। রাজা জিজ্ঞাসা করিলেন, “এ আবার কি? তুমি পলাইয়৷ আসিলে যে £”

পিতম বলিল, “আমি পলাই নাই, তাড়িত হইয়াছি। রক্ষ- কের আমার নিকট পয়স। চাহিল। আমি বাঘের মত তর্জন গর্জন করিয়! আঁচড় কামড় দ্িলাম, তাহারা আমাকে মেরে তাড়াইয়! দিল।,* _. রাঁজা। বল দেখি, তুমি কি সত্যই পাঁগল ?

পিতম। হা, আমি পাগল, আমি পিতম পাগল

রাজা তুমি জান কাহাকে পাগল বলে?

পিতম জানি- আমাকে বলে।

রাজা পাগলের অর্থকি?

পিঁতম। অর্থ পিতম-_অর্থাৎ আমি

একজন ভট্টাচার্য্য পণুশালায় আর যাইবে না?

পিতম। না, ওখানে মারে।

রাজা ফিরিলেন। পণুশালায় যাইয়া ছই রি জন রক্ষ- ককে পয করিলেন, তত্বাবধারককে বিশেষ ভৎ্'সন! করিলেন। পিতম আবার পিগঁরে প্রবেশ করিল।

মাধবীলত1। ১৭

এই সময়ে সকলেই মনে মনে পিতম পাগলের কথা অঙ্থ- শীলন করিতেছিলেন চুড়াঁধন বাবু ভাবিতেছিলেন, “যে পিশুম নির্বোধ নহে, সময় বুৰিয়া কার্য করিয়াছে পিতম ভাবিয়া চিন্তিয়। শেষ ভাল সছুপায় করিয়াছে আশ্রয় আহার ভিন্ন পাগলের আর কি প্রয়োজন হইতে পারে? যে আপনার প্রয়োজন সাধন করিতে পারে তাহারে পাগল কেন বলি? দেনির্বোধ কিমে ? পিতম আমার অপেক্ষা বুদ্ধিমান; আমি পধ্যন্ত আপনার কাঁধ্য সাধন করিতে পারি নাই। পাগল হইয়াও পিতম আপনার কাজ হাঁসিল করিল। আমার নিছ্ছের ওদাস্যে আমি সকল হাঁরাইতেছি।» ধনগুয় ভট্টাচার্য্য ভাবিতেছিলেন, “পিতম কি উদ্মাদ ! এত স্থান থাকিতে বাঘের পার্থখে বাদ করিতে গেল। মহারাজ অতিথিশালায় স্থান দিতে চাহিলেন, আপনার নিকট রাখিতে চাঁহিলেন, তাহ! ভাল লাখিল না। যে মনে করে জমি -সমুদ্রকে বিবাহ করিয়াছি, সে এরূপ করিবে তাহার আর আশ্চর্য কি?” দ্বারবান্‌ রামদীন দোবে ভাবিতেছিল, “পাঁগল কি আহার করিবে ?*রোটি বা ভাত তাহাকে কেহ দিবে নাঃ আহারের বন্দোবস্ত রাজা কিছু করিয়া! দিলেন ন1। বোধ হয়, পাগলা চানা খাবে, তাহা মন্দ কি! ভোরপেট যদ্দি চাঁন! পওয়া যায আর তাহার মঙ্গে ছুই চারি সের দুগ্ধ দেয়, তবে আমিও নকরি _ ছাড়িস্কা। ওখানে থাকিতে পারি।” রাজ! ইন্ত্রভূপও পিতম পাগলার কথা ভাঁবিভেছিজেন।. (পিতম সন্ধে তাহার কি ঈষৎ মনে আসিতেছিল, অথচ আসিল না। মনের. একাংশে যেন পিতমের ছার! রহিয়াছে, তাহা

১৮ সাধবীলতা |

দেখিতে গেলেই মিলিয়া যাঁয়। রাঁজ| ভাবিলেম, « পিতম কে? আরকি কখন ইহাকে দেখিয়াছি? কবে দেখিয়াছি? বাল্যকাল না যৌবন কালে আমি কত লোক দেখিয়াছি, ভাহাদের দেখিলে এরূপ ম্মরথ করিবার আঁকাঁজ্া হয় ন; স্মরণ না হইলে ত্ব এরপ যন্ত্রণা হয় না। পিতয, পীতান্বর! ইহার আর কি কোন নাম ছিল? কিনাম ছিল? কে এব্যক্তি? সত্যই কি গাগল? পিতমের কথাবার্তা অসঙ্গত, কিন্ত অসংলগ্ন নহে। পাগলের কথ! এরূপ হয় না। পিতমের জ্ঞান আছে। বোধ হয়, পিতম পাগল নহে।”

জান থাঁকিলে যে পাগল বলা যাঁয় ন। এমত নহে। বরং নেক সময় পাগল শবে কতকাংশে জ্ঞান-সম্পন্ন বুঝায়। মাধু ভিক্ষা করে, গাঁক করে, আহার করে, ভয় করে, অথচ. মাধুকে লোকে পাগল বলে। যেতয় করে তাঁহার পরিণাম বোধ আছে, দে একেবারে জান*শুন্য নহে। অভয় পুষ্প চয়ন করে, পুজা করে, মতরঞি থেলে, অথচ তাহাকে লোকে পাঁগল বলে। নিতাই খাজন1 আদায় করে, দেন পাওনা হিসাব করে, তর্ক করে, অথচ লোকে তাহাকে পাগল বলে। ইহাঁদের সকলেরই কিছু কিছু জান আছে, তবে.কেন লোকে পাগল বলে।

সাধারণতঃ সকল বিষয়ে যাঁহার যে পরিমাণে জ্ঞান. দেখা যায়, ত্বোন বিষয়ে তাঁহার দেই পরিমাণে জ্ঞান না দেখিতে পাইলে লোকে. হয় ত:তাঁহাকে পাগল বলে। অর্থাৎ জ্ঞানের সামগ্রসা ন| দেখিলে লোকে পাগল বলে। অন্ততঃ, বকলে না বলুক কেহ কেহ বলে। বালকে উলঙ্ক থাকে কেহ তাঁহাকে পাগল বলে না, অন্যান্য বিষয়ে বালকের যে রূপ ভ্ঞান, বিষয়েও.তাহার দেই ব্ধপ জান, কাজেই, কেহ: তাহাকে পাগল, বলে' নাঁ। অভয় পাগল, সন্ধরঞ্চি খেলে, সাংসারিক সকল. কার্য

মাধবীলতা। ১৯

করে, কিন্তু “জব পাব কোথায়” এই কথা কেহ তাহার শ্রতিগোঁচর করিলেই সে গালি দিয়া উঠে আর চীৎকার করিতে থাকে। সতরঞ্চি ক্রীড়ায় বা সাংসারিক বিষয়ে তাহার জ্ঞানের যে পরিচয় পাওয়! যায়, এস্থলে তাহার জ্ঞানের সে পরিচয় পাওয়া যায় না। কাজেই তাহার জ্ঞানসত্বন্ধে সামগ্রস্য নাই বলিয়া লোকে তাহাকে পাগল বলে।

দশ সহত্র বৎসর পূর্বে হয় একেবারে জ্ঞানের সামঞ্জস্য ছিলনা। তাৎ্কালিক সেই অসামঞ্জস্য কেহ আপনাদের মধ্যে জানিতে পারিত না কেহ কাহাকেও পাঁগল বলিত না। “পাগল” নৃতন গালি। সামঞ্জদ্যের পরে আস্ত হইয়াছে। সেই আদিম কালে এতই গুরুতর অসামঞ্জম্য ছিল যে, এক্ষণে আমর! সেই' সময়ের লোক দেখিলে তাহাকে পাগল ভাবিবার সম্ভাবনা অন্ততঃ আমর আশ্চর্য হইবার সম্ভাবনা

এই বর্তমান সময়ে আমাদের মধ্যে জ্ঞানের যে রূপ অনা- মগ্রস্য দেখিতে পাঁওয়! যায়, তাহ! নিতান্ত সামাঁন্ত নহে যে ব্যক্তির। বাম্পীয়-যন্ত্র গঠন করিতেছে, চন্্র স্য্ের গতি গণনা করি- তেছে, বাঁ হইতে জলের স্থষ্টি করিতেছে, তাহারাই হয় বৃষ্টির নিষিত্ত দৈব-চেষ্টা করিতেছে মড়ক নিবারণ করিতে হইবে, তাহারাই হত্ব বলিবে “চল, ধর্ম-মন্দিরে চল, বা অন্য অশভ্ডাঁয় চল, প্রার্থনা গাই গিয়া, মড়ক অবশ্ত নিবারণ হইবে ।” বুদ্ধির এইরূপ বৈষম্য দেখিলে কেহ এক্ষণে অসঙ্গত বিবেচনা*করে না, কিন্ত পরে করিবে, হয় তখন রূপ বৃদ্ধিমান্কে লোকে পাগল বলিবে।

রূগ অর্থে, পাগল এক্ষণে আমরা মকলেই। বুদ্ধির বৈষম্য : বা জ্ঞানের অসামগ্রদ্য সকলেরই আছে। কি্ত কেহ কাঁধাকে পাঁগল বলি না। পাগল রূঢ় কথা। তবে নির্বেধিবানি,স্থাথ-

২৪ মাধবীলত!

পর বলি, দা্ভিক বলি, কৃপণ বলি, নিষ্ঠ,র বলি, হিংস্রক বলি। একই কথা, সকল গুলিই বুহ্ধির বিরুতিবাচক; পাগলের পরি- চার়ক। পাগলের সম্পূর্ণ নামকরণ অদ্যাপি বাকী আছে। পিতম-_পাগল, তাহ! জানে নাঁ। বুদ্ধিতে অন্য লোক যে .প্রকার,আপনিও সেই গ্রকার এই পিতমের বিশ্বান কোন অংশে যে ব্যতিত্রম আছে, তাহ! পিতম বুঝিতে পারে না। কিন্তু

পিতগ্সের বোধ আছে যে, পাগল শব্দ তাহার নামের অংশ, এই জন্য লোকে তাহাকে পাগলা বলিয়! ডাকে।

পণ্ড-শালায় লৌহ-পিঞ্জরে স্থান পাইয়! পিতম শয়ন করিল, শয়ন অনেক সময় তৃতপ্তিবাচক। _.. ইন্ত্রভূপ দেখিলেন যে, পিতম আর তাহার প্রতি লক্ষ্য করিল না। রাজ! হাঁদিলেন। পিতমও হাদিল। রাজা জিজ্ঞাসা করিলেন, “আমাদিগকে আঁ তোঁমীর মনে থাকিবে £” পিতম। আজ মহারাজের পণু-শালা সম্পূর্ণ হইল। রাজা। কেন?

_ পতম। আমারই নিমিত্ত, আমি মাহুব-পণু, এক প্রকার নরসিংহ, নৃসিংহ দেব সে রাজা নৃণিংহকে গারদে পাঠাইভে পারেন নাই আপনি তাহা গারিলেন আপনার জয়। মহারাজ কি জয়। অবতাঁরে আমি বড় সুখী ভক্তকে রক্ষা করিতে হয় ন1। ভক্তরাই আমায় রক্ষা করে। বরং বৃণু রাজা ৰর লও।,তথাত্ত। এখন ঘরে যাঁও। আমি নিদ্রা বাই।

রাজা। নৃসিংহ দেব! তোমার প্রহলাদ কই?

পিতম। তুমিই আমার প্রহলাদ, তুমিই আমার ভক্ত।

রাজা। আর তোমার রাজা হিরণ্যকশিপু কই?

পিতম। চুড়াঁধন বাবুকে দেখাইয়া আমার হিরণ্য- কশিপু।

মাধবীলতা হ১

. রাজী! চুড়াধন রাজ! নহে।

পিতম। শীত্র হবেন।

হঠাৎ রাজ! চুড়াধন উভয়েই শিহরিয়া! উঠিলেন। কেমন একটা ভয়ে রাজার হৃদ্‌কম্প হইল কিন্তু তৎক্ষণাৎ গেল। এক- বার তাঁহার মনে হইল পাগল কেন অণ্ভ কথা হঠাৎ মুখে আনিল। পরক্ষণেই মনে হইল পাগলের কথ! মাত্র। আমার সস্তান থাকিতে চুড়াধন কেন রাজ1 হইবে? চুড়াধনের মঙ্জল হউক, আমার সোণার টাদও চিরজীবী হউক।

চুড়াধন বাবুর চাঞ্চল্য কেহ দেখিতে পাইল না1। তাহার নয়ন চকিতের ন্যায় বিক্ষারিত হইয়! আবার তৎক্ষণাৎ পূর্ব-

মত ক্ষুদ্র হইয়! শান্ত-মূর্তি ধারণ করিল।

পণ্তশাঁল! হইতে বহির্গত হইয়া! রাজা ইন্্রতূপ অন্যমনস্কে অতিথি-শাঁলার দিকে চলিলেন। প্রথমে ছুইজন ভোজপুরী পালোয়ান বুক ফুলাইয়া মাথ। হেলাইয়! ঢাল তরওয়াল লইয়া ষাইতে লাঁগিল। তাহাদের প্রায় বিংশতি হস্ত ব্যবধানে রাজ! স্বয়ং, তটছাঁর পশ্চাতে দ্বাদশ জন অধ্যাপক, রাজপুরোহিত এবং চুড়াধন বাঁবু। তৎপরে রাঁজচিকিংসক, জাতিতে বৈদ্য ; পরে খাজনাখানার একজন মুহুরি, জাতিতে কায়স্থ ; তখ্পরে এক- জন আচার্য ডঝুরাকুতি ঘটিকাঘন্ত্র ছুই হস্তে ধরিয়া একাগ্রচিত্তে বালুকাক্ষরণ নিরীক্ষণ করিতে করিতে যাইতে লাগিল। আটা ধের্যর পশ্টাতে পরিচারকগণ, কাহার হস্তে কষুতী ছত্র, কাহার হস্তে পিকদানি, কাহারও হস্তে পানের বাটা সর্ব পশ্চাতে এক- খানি জুনর শিবিকা, বাহক স্বন্ধে হেলিতেছে ছুলিতেছে। আর .

২২ £ মাধবীলতা॥

তাহার ছুই পার্খে চারি পাচ জন রক্ষক লাঠি শড়কি লইয়! শূন্য শিবিক1 রক্ষা করিতে করিতে চলিতেছে

রাঁজাঁর বেশ ভূষা অতি সাঁমান্ত ; মণি মুক্তা নাই, জরি জব্বড় নাই, অধ্যাপকের স্তারর একথানি সামান্য পষ্টবন্ত্র ত্রিকচ্ছ করিয়া! পরিধান ; গলায় উত্তরীয়, পদদ্বয়ে পাছুকা, হস্তে একটি' যষ্টি। এক্ষণকার ব্যবহার দেখিয়া বিচার করিলে দণ্ডটি কিঞ্চিৎ দীর্ঘ বলিয়া! বোধ হইবে-__মন্ান অর্ধ হস্ত পরিমাণ দীর্ঘ অন্থ- ভব হইবে। রাজার লাঠি বলিয়া থে কিঞ্চিৎ দীর্ঘ, এমত নহে। ভদ্রলোক মাত্রের যষ্টি এইরূপ দীর্ঘ হইত। তৎকালে চৌকি- দারের লাঠি মস্তক পরিমাণ হইত। বাহকের লাঠি স্কপ্ধ পরি- মাঁণ হইত। ভদ্রলোকের যষ্টি প্রায় বক্ষ পরিমাণ হইত।

রাঁজ! দণ্ডটি মুষ্টি-বদ্ধ করে ধরিয় চলিতেছিলেন ; তৎকাঁলের প্রথাই এইরূপ ছিল, সকল ড্রকাই মুষ্টি বদ্ধ করিয়া ধরিতে হইত, মুষ্টি ব্ধ করিয়া কার্ধ্য করিতে হইত। তত্কালে অঙ্গুলি ব্যব- হার বড় ছিল না। কারণ শিল্প বড় প্রচলিত হয় নাই, শিল্পের পুর্বে কৃষী অবস্থায় সমাজের সকল কার্য মুষ্টিতেই চলে, ভূমি- খনন হইতে ঘণ্টাঁবাদন পথ্যস্ত সকলই মুষ্টির কাঁধ্য। প্রহার মুষ্টি দ্বারা, ভিক্ষা-দান মুষ্টি দ্বারা, লেখা (মুট কলম) মুষ্টি দ্বার1। কাজেই যষ্টি ধারণও মুষ্টি দ্বার

রাজা ইন্ত্রভুপ গৌরাঙ্গ ছিলেন। দীর্ঘ, ঈষৎ স্থুলকায়। তাহাকে দেখিবামাত্রই সর্বাগ্রে তাহার নাসার প্রতি দৃষ্টি পড়ে। নসা বিশেষ উন্নত নহে, কিন্তু দীর্ঘ; ক্রমে উন্নত হয় নাঁই, জরযুগ হইতে একই ভাবে চলিয়া আসিয়াছে। ভর বুগ্ম। 'ঙ্গে কোথাও চন্দন নাই কিন্তু অনবরত সেই সদ্গন্ধ। বয়ঃক্রম প্রায় পঞ্চাশ হ্ছসর | রাজ। অতি মৃদু পাদবিক্ষেপে চলিতেছেন; ছুই এক বার মত্তক

মাধবীলতা।। * ৪২৩

নাড়িতেছেন, আপনার মনের সঙ্গে আপনি কথা কহিতেছেন। রাজপথ দিয়া যে চলিতেছেন তাহা একেবারে ভুলিয়! গিয়!- ছেন। এইরূপ কিছুর গিয়া এক স্থলে ধাড়াইলেন। চারি দিকে নগরবাসীর! তাহাকে প্রণাম করিতেছে রাজা তত্প্রতি লক্ষ্য না করিয়া! সঙ্গীদের জিজ্ঞাসা করিলেন, *গ্রহাচাধ্য কই ?৮ গ্রহাঁচার্ধ্য অগ্রনর হইলেন রাজ] জিজ্ঞাস। করিলেন, “এক্ষণে কি যোগ %”

গ্রহাচাধ্য ব্যতীপাভ যোগ।

রাজা এই বলিয়া! আবার পূর্ব মত চলিলেন। কিন্তু ক্রমেই তাঁহার বিমর্ষ-ভাঁব স্পষ্ট হইতে লাগিল।

রাজা যখন পশু-শালায় ছিলেন, তখনই দিবাবসাঁন হইয়া- ছিল। এক্ষণে শয়ন কাল উপস্থিত। গৃহে গৃহে শঙ্খধ্বনি আরস্ত হুইল শঙ্খ 'গ্রগনে একটি ছুইটি, এখানে সেখানে, ভগ্ন স্বরে, নিম্ন স্বরে, কম্পিত স্বরে, গরে একেবারে প্রতিগৃহে গম্ভীর স্বরে বাজিরা উঠিল, শবে গাঁকাশ পরিপূর্ণ হইল। রাজা আরও বিমর্ষ হইলেন। তাহার বোধ হ্ৃইতে লাগিল, যেন মরণোন্ুখ কোন ভীবণ জগুর হহাশ স্বরে আর্থনাদ করিতেছে। তাহার কর্ণে শঙ্খধ্বনি অমদদল-ধ্বনি বোধ হইতে লাগিল। তাহার প্রাণ কীদিয়া উঠিতে লাগিল ;

রাঁজা আবার দীড়াইলেন। চূড়াধন বাবুকে ডাকিলেন। চুড়াধন বাবু সঙ্কুচিত ভাবে অগ্রসর হইলেন। রাজা বলিলেন, “আমার নিকটে আইস, আরও নিকটে আইস। তুমি আমার পিতামহের প্রপৌত্র, আমার ত্রাতুশ্গুত্র, ইচ্ছা করে তোমার আমি বুকে করি।” শেষ কথা গুলি ভগ্র-স্বরে বলিয়া চূড়াধন বাবুর হস্ত ধারণ করিয়৷ রাঁজ! চলিলেন ; কতক দূর গিয়া! রাজ! চুড়াধনকে আশীর্বাদ করিতে লাগিলেন “ভুমি অরোগী হও, তুমি চির্জীবী হও ।” চূড়াধন বাবু কিছুই বুঝিতে পারি-

২. মাঁধবীলত| |

লেন না, নত মুখে সঙ্গে সঙ্গে চলিলেন। এমন সময় দেব-মন্দিরে নহবদ বাজিয়া উঠিল। রাম সীতার আরতি আরম্ত হইল নগরবাসীর! ঠাকুর দর্শন করিতে বাহির হইল।

নহবদ, সানাই, কাশর, ঘণ্টা, শঙ্খ, মুদঞ্জ সকল একেবারে বাঁজিতে লাগিল। বালকদিগ্ের অন্তর নাচিরা উঠিল, সকলে সেই দিকে ছুটিল, যে ছুটিতে পাঁরিল ন1 নে কাঁদিতে লাগিল। এক কুটার-দন্মুধে একটি' বাঁলিক৷ একা! বসিয়। কীদিতে ছিল, তাহার সহোদর তাহাকে লইয়া ক্রীড়া1 করিতেছিল, বাঁদ্যোদ্যম হইবামাব্র ঠাকুর দর্শনে সে ছুটির। গিয়াছে, সঙ্গে লইয়৷ গেল নম বলিয়। বালিক! কাদিতেছে। বালিকার বয়স প্রায় এক বর, দরিদ্র-সন্তান কিন্তু হষ্টপুষ্ট, দেখিলেই বোধ হয় বড় ন্নেহের ধন, অঙ্গে কোথাও ধূলা'র লেশ মাত্র নাই; নয়নে কজ্জবল, _জ্যুগের মধ্যস্থানে একটি হুক্ষ্স টাপ। মুখখানি অতি যত্বে মার্জিত।

বালিকাকে কাঁদিতে দেরখিয়া রাজ! সেই খানে দাড়াইলেন। চূড়াধন বাবু রাজার ইচ্ছা অনুভব করির। বালিকাকে ভুলা- ইতে গেলেন। করতালি দিপা! বালিকাকে ক্রোড়ে আহ্বান করিলেন। বালিকা ভর পাইয়। মুখ ফিরাইল, কুটারে যাইবাঁর নিমিত্ত পইঠায় উঠিবার চেষ্ট! করিতে লাগিল। ব্যাকু- . 'লিত স্বরে আরও কীদিতে লাগিল। রাজ! তখন চুড়াধন বাবুকে সরিতে বলিয়া! আগনি অগ্রসর হইলেন,ঢুই এক বার ড।কিলেন, বালিক। ফিরির! দেখিল, দেখিবামাত্র ছুই বাহু বিস্তার করিয়] হাসিল। «একজন অধ্যাপক পশ্চাৎৎ হইতে বলিয়! দ্রিলেন, “কন্াটি ব্রাহ্মণের সন্তান ।” রাজা অতি আঁদরে বালিকাকে ক্রোড়ে লইয়া মুখচুম্বন করিলেন। কন্তাটি তখন ক্ষুদ্র কু হস্তে করতালি দিয়া এক একবার পথের দিকে হস্ত বাড়াইয়া “এ এ'' বলিতে লাগিল। রাজ! বালিকার মুখচুম্বন করিয়া জিজ্ঞাসা

স্‌

মাঁধবীলতা ! ২৫

করিলেন, “ঠাকুর দর্শন করিবে? চল, আমিও তোমার সঙ্গে ঠাকুর দর্শন করিব, অনেক দিন শ্রীরামচন্দ্রকে দর্শন করি নাঁই, তোমার দ্বারা তিনি স্মরণ করাইয়া দিলেন। চল, তোমায় আমি বুকে করিয়া! লইয়া যাই” 'বালিকা আনন্দে হাসিতে লাগিল।

বালিকার গর্ভধারিণী জল আনিতে গিয়াছিল। কুটীর- সম্তুথে অনেক গুলি ভদ্র লোকের সমাগম দেখিয়া কলস-কক্ষে অন্তরালে ঠীড়াইয়া রহিল, কিছুই বুঝিতে পাঁরিল না সকলে চলিয়া! গেলে ব্রাহ্মনী প্রতিবাসীদের নিকট সকল শুনিয়া মনে করিলেন, তাহার সন্তানকে রাজ! আর ফিরিয়া দিবেন না, অতএব রীতিমত কাদিতে বসিলেন।

রাঁজা কন্যাটিকে ক্রোড়ে লইয়ন্লামসীতার দ্বারে উপস্থিত হইলেন ) সিংহপ্বারে নহবৎ বাঁজিতেছিল, বালিকা উর্ধমুখে রাজাঁকে সেই বাদ্যস্থান দেখাইতে লাঁগিল। রাঁজা ক্রমে মন্দিরে উঠিলেন। তাহাকে দেখিয়! সকলেই সসন্মানে সরিয়া দাঁড়াইল। রাজা বালিকাকে বুক হইতে নামাঁইয়া অতি ভক্তিভাবে প্রণাম করিলেন। বাণিকাটিও তাঁহার পার্খে এক প্রকার শয়ন করিয়! প্রণাম করিল্লু। প্রণাম করিতে করিতে রাজার প্রতি মুখ ফিরাইয়। দেখিতে লাগিল। রাজ! উঠিলেন দেখিয়া বাপিকাঁও উঠিয়া দাড়াইল; স্বর্ণালঙ্কারবিভূষিত দেবমূর্তি দেখিয়া “এ ্”; বলিয়া রাজাকে দেখাইতে লাগিল। আবার পুনঃ পুনঃ প্রণাম করিতে লাগিল, এই সময় বাদ্যোদ্যম স্থগিত হইল। বালিকা “যা-_য1” বলিয়। চারিদিকে চাহিতে লাঁগিল। শেষে রাজার জানু ধরিয়া ধাঁড়াইল। রাজ! জিজ্ঞাস! করিলেন “ঘরে যাবে?” কন্যাটি আবার দেবমুর্তির দিকে ক্ষুদ্র হস্ত নির্দেশ করিয়া! “& এ” বলিতে লাগিল।

মাধবীলত]1।

মন্দিরে একটা ব্রন্ষচারী উপস্থিত ছিলেন। তিনি অগ্রসর হইয়! জিজ্ঞাসা করিলেন, “মহারাজ ! সন্তানটি কি রাঁজকন্য। ?” রাজা বলিলেন, “1” এই ঝলিয়! বালিকাকে আবার পূর্ববমত বুকে তুলিলেন। বালিকা বুকে উঠিয়া! একবার রাজার মুখের দিকে চাহিয়া দেখিল, তাহার পর রাজস্বন্ধে মস্তক রাখিয়া স্ডির ভাবে রহিল। রাজা তখন ব্রহ্মচারীকে বলিলেন, “বাঁলিকাটি কাহুণর কন্যা আঁমি তাহা! পধ্যস্ত জানি না, পথে কন্যাটি কাদিতেছিল, আমাকে দেখিয়1 আমার ক্রোড়ে আসিল, কোন- মতে "সার কাহার ক্রোড়ে গেল না।”

ত্রক্ম। আশ্চর্য্য ! শিশুদের এরূপ কখন দেখ! যাঁয় নাই; কখন অপরিচিত লোকের নিকট যায় না।

রাজা। বুৰি ষস্তানটি নিদ্রা গেল। ইহার আত্মীয় কেহ আসিয়াছে?

“আআদিয়াছে” বলিয়া একজন ত্রাঙ্গণ যোঁড়করে সম্মুখে ঈাড়াইল। রাজ] জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনি কন্যাটিরর কে হন?”

ব্রাহ্মণ। পিতা।

রাঁজা। আপনি বড় ভাঁগ্যধর। কন্যা আয়ার হইলে আমিও ভাগ্যধর মনে করিতাম। বুক হইতে নাঁমাইতে ইচ্ছা! করে না,। কিন্তু আপনার কন্যা আমি কি বলিয়। রাখিব, নতুবা আঁযার ইচ্ছ! করে আমি কন্যাটির লালনপালন করি।

এই কথায় ব্রাহ্মণ ভয়ে ইতস্ততঃ করিতে লাগিল দেখিয়! একজন প্রতিবাঁসী বলিলেন, “মহারাজ, আপনি এ. প্রদ্দেশে্র রাজা, আমর! সকলেই আপনার সন্তাঁনদ্বর্ূপ। আঁপমি যাহাই ইচ্ছা করিবেন, তাহাই করিতে পারেন। আপনি যদি কন্তা'টি : গ্রহণ করেন, তাহা হইলে ইহা অপেক্ষা আমাদের. সৌভাগ্য

মাধবীলতা | ২৭

আঁর কি হইতে পানদ্ে। দ্ররিদ্রের কন্তা আপনি ক্রোঁড়ে করিয়াছেন, ইহাঁতেই আঁমরা সকলে চরিতার্থ হইয়াছি। দ্রিজ্ের প্রতি যে দেশের রাজার দ্বণ! নাই ; দে দেশের প্রজা অপেক্ষা স্বখী কোঁথায় ?*

রাজার উত্তর দিবার পূর্বেই চূড়াঁধন বলিলেন, “শিশু ন্বন্ধে রাজা প্রজা! নাই, ধনবান্‌ দরিদ্র নাই। সম্তাঁনমাত্রেই পবিজ্র। যে শিশুকে ক্রোড়ে করে, সেই পবিত্র হয়, সেই চরিতার্থ হয়, সস্তানের কিছু গৌরব বৃদ্ধি হয় না”

রাঁজা বলিলেন, “তথাপি আমি কন্যাটিকে ক্রোড়ে করি- ্লাছি। আমার ক্রোড়ে করা ব্যর্থ হইবে না৷ কন্াটি রাঁজ- কন্যার স্তায় প্রতিপালিত হইবে আমি তাহার বন্দোবস্ত আগামী প্রাতে করিয়া দ্রিব। অবৰমার বড় ন্ত্রণ। হইয়াছিল? আমার মন কীদিয়। উঠিতেছিল কন্তাটি ক্রোড়ে করিয়! অবধি আমার সকল ছুর্ভাবনা গিয়াছে আবার হ্থচ্ছন্দত! লাভ করিয়াছি। কন্তাটি বড় চমৎকার, আমি আত্তরিক তাল বাপিয়াছি। কন্তাঁটি বাঁহাতে স্থখে থাকে, আমি তাহা! অবশ্য করিব। এক্ষণে আপনাঁর কনা? আপনি লইয়া যান।” ব্রক্গ- চাঁরী বলিলেন, ““্রয়া ! আশ্চর্য্য দয়া !”

ঘরিদ্র ব্রাহ্মণ রাজার ক্রোড় হইতে কন্যাকে গহণ করিতে সাহস করিল ন]1। চুড়াঁধন বাবু কন্যাকে লইয়া ব্রাক্মণুকে সমর্পণ করিলেন। কন্যা নিদ্র। গিয়ান্ছিল, চুড়াধন বাবুর হস্তে জাগ্রত হইয়! পিতৃক্রোড়ে গিয়া কাদিতে লাগিল পিতা ভুলাইবার নিমিত্ত স্ত্রীলোকের ন্যায় “ও আয়, আয় রে”, বলিয়া মাখা চাঁপড়াইতে লাগিলেন কন্যাটি তাহাতে শাস্ত হইল ন1। রাজা তখন: অগ্রসর হইয়া! বলিলেন, “আমার ক্রোড়ে আসিবে? আইস।” কন্যাটি এই আহ্বানে মাথ] তুলিয়! রাজাকে দেখিল।

২৮ মাধবীলত! |

দেখিয়াই হস্ত প্রসারণ করিয়া! রাজক্রোঁড়ে যাইবার ইচ্ছা ব্জানা- ইল। রাজ। তৎক্ষণাৎ ক্রোড়ে লইলেন। বালিকা আবার পূর্বব- মত রাজস্বন্ধে মাথ| রাঁখিয়! নিদ্রা যাইতে লাগিল। সকলেই আশ্চর্য্য হইল, রাজাও আশ্চর্য হইলেন।

নিদ্রা কিঞ্চিৎ গাঢ় হইয়া আসিলে রাজা ব্রাহ্ণকে কন্ঠাটি প্রত্যর্পণ করিয়! বিদায় করিলেন। যাইবাঁর সময় ব্রাদ্ষণকে রাঁজা জিজ্ঞাস] করিলেন, প্কন্যাটির নাম কি?” ব্রাহ্মণ উত্তর করিলেন, “মাধবীলত]11” |

আরতি শেষ হইলে সকলেই প্রণাম করিয়াছিল, কেবল বরঙ্ষচারী বক্ষে বাছবিন্যাস করিয়া দীড়াইয়াছিলেন প্রণাম করেন নাই তিনি দেবমূর্তিকে কখন প্রণাম করেন না কথা সকলে জানিত অথচ সে জন্য কেহ তাহাকে অভক্তি করিত না, বরং সকলেই বলিত ব্রহ্মচারী জ্ঞানী, তাহাই তিনি প্ামসীতার মূর্তিকে প্রণাম করেন ন1।

্রক্ষচারী মাসে মাসে একবার করিয়া সন্ধ্যার সুমস্ক, টি. সীতার আরতি দর্শন করিতে আমসিতেন। বীহারা এই সময় সেখানে উপস্থিত থাকিতেন, সকলের সহিত তিনি অভিস্নেহে' কথ! বার্তা কহিতেন। অনেকের নাম জানিতেন, তাহাদের সাং- সাঁরিক অবস্থাও জানিতেন ; নাম ধরিয়! তাঁহাদের ডাঁকিতেন এবং সংসারের কুশলবার্তা দিজ্ঞাসা করিতেন। কিন্তু কেহ সৎপরামর্শ জিজ্ঞাস! করিলে কোন উত্তর করিতেন না, কখন কখন বলিতেন, আমি সংসারী নহি, এসকল বিষয়ের মন্ত্রণা আম]! অপেক্ষা, অন্যে ভাল দিবে।

মাধবীলতা ২৯

শান্তিশত গ্রামের প্রায় ক্রৌশান্তর দুরে এক প্রাস্তরমধ্যে একটি ভগ্ন ম্গিরে ব্রহ্মচারী একাকী বাস করিতেন মন্দিরটি কোন দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত নির্মিত হইয়! থাকিবে, কিন্তু যে সময়ের কথা বলা যাইতেছে, সে সময়ে মন্দিরে কোন মূর্তি ছিল ন1। প্রবাঁদ আছে যে, এক কালী প্রতিম! প্রতিষ্ঠা করি- বার নিমিত্ত তথায় আনীত হইয়াছিল কিন্তু রাত্রিকালে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কতকগুলি নিরীহ শান্ত লোক আসিয়! প্রতিমাকে নিকটস্থ দীর্ঘিকাঁয় নিক্ষেপ করে। এবং কালীমূর্তি স্পর্শ করি- য়াছে বলিয়া সেই রাত্রিকাঁলে তাহারা অবগাহন স্নান করে। প্রবাদ সত্য হউক বা! মিথ্য। হউক, দীর্থিকার নাম কালীদহ।

ব্রহ্মচারীর সহিত এই স্থানে সাক্ষাৎ করিতে গেলে সাক্ষাৎ হয় না। মন্দিরের দ্বার সর্বদাই ,খোলা থাকে, অথচ প্রবেশ করিলে কখন ব্রন্মচারীর দেখ! পাঁওয়৷ যাঁয় না। মন্দিরের তিন দিকে প্রান্তর এক দিকে কাঁলীদহ। তথায় একটা বকুল বৃক্ষ দুইটা _ বেলবৃক্ষ ভিন্ন আঁর কোন বৃক্ষ কি লতা নাই। চারিদিকে বন্থ- দূর পর্য্য্ত দৃষ্ট হইয়া থাকে, কোথাও ব্রহ্মচারীকে দ্দেখিতে পাওয়া যায় না। যখনই অনুসন্ধান করা যায়, তথই এইরূপ অথচ লোকে বলে, ব্রহ্মচারী এই স্থানে বাঁস করেন, তীহাকে জিজ্ঞাস! করিলে ভিনিও সেই কথা৷ বলেন। মাসান্তরে কেবল রামসীতার মন্দিরে তাহাকে দেখিতে গাওয়া যা়। লোকের শ্রদ্ধা! তাহার, সম্বন্ধে অতি আশ্চর্ঘ্য। দেবভক্তি তাঁহার একেবারে*ছিল না, তিনি কখন দেবতাঁকে প্রণাম বা পুজা করেন নাই, কেহ কখন তাহাকে সন্ধা পাঠ করিতে শুনে নাই, অথচ সকলেই তাহাকে পরম ধার্টিক বলিয়া জানিত। তিনি কখন কোন ভবিষ্যৎ কথা বলেন নাই অথচ জ্যোতিষশান্ত্রে তীহার বিশেষ জ্ঞান আছে ৰলিয়া বাষ্ট্রছিল। ভিনি কখন কাঁহাকে ওষধ দেন নাই; কিন্ত

৩৪ মাঁধবীলতা।

লোকের বিশ্বাস ছিল ষে, তিনি মনে করিলেই সকল রোগই আরাঁম করিতে পাঁরেন। লোকের এরপ বিশ্বাস, এরপ শ্রদ্ধা কেন হইল, তাঁহ! অন্থভব কর] কঠিন, কিন্তু চূড়াঁধন বাবু মনে মনে তাহ এক প্রকার অনুভব করিয়া! রাঁখিয়াছিলেন দেওয়ান- পু নবকুমারকে তিনি একদিন এই কথার প্রসঙ্গে বলিয়।- ছিলেন যে, ব্রহ্মচারী হয় জুয়াচোর নতুবা অদৃষ্টবান্‌ পুরুষ। নবকুমার তাহতেই মত দ্বেন। রামসীতার মন্দির হইতে বহির্গত হইয়া! ব্রহ্মচারী আঁপন আঁশ্রমাভিমুখে চলিলেন। কতক দূর যাইতে যাইতে কয়েক জন গ্রাম্য লোকের সহিত তীহা'র সাক্ষাৎ হইল। তাহারা কার্ধ্য উপলক্ষে প্রাতে শাস্তিশত গ্রামে আসিয়াছিল, এক্ষণে কার্য জমাধাস্তে স্ব স্ব গ্রামে প্রত্যাগমন করিতেছে ব্রহ্মচারী তাহা- দের সহিত কথোপকথন করিতে করিতে চলিলেন। তাহাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ নান! কথার পর বলিল, “ঠাকুর, আজ এই মাত্র আমর! একট] বড় কুসম্বাদ শুনিয়াছি। রাজা আমাদের দেবতা! স্বরূপ, রাজার ধর্মে গ্রজার ধর্ম, রাজা বদি এরূপ হন আমাঁদের কি দশা হইবে! গুনিলাম, রাজা না কি এই মাত্র সন্ধ্যার সময় লোক জন লইয়া স্বয়ং একটা ব্রাহ্মণকন্যা অপহরণ করিয়া লইয়া গি্লাছেন ? যুবতী কত চীৎকার করিতে লাগিল, কেহ তাহার রক্ষার্থে আসিল না, ঘে রক্ষক সেই যদি তক্ষক হয়, তবে আর কে কথা কহিবে! ভয়ে তাহার পিতা পলারন করিয়াছিল, স্বামী বাটা নাই, নতুবা সে রাজা বলিয়৷ বড় ভয় করিত না, তা সে যাহাই হউক পৃথিবীর দশা! হল কি? এষে ঘোর কলি উপস্থিত; রাজ। হুইয়! প্রজার কন্যাহরণ! কি সর্ধনাশ ! আর বৃদ্ধ বয়সে রাজার এই ছুর্মতি, ইহা অপেক্ষা] দেশের আর কি অমঙ্গল হইতে পাঁরে।»

মাধবীলতা ৩১

বৃদ্ধ চুপ করিল দেখিয়া! একজন সঙ্গী বালক বলিল, পপিতম পাগলার কথা বল। রাজা তাহাকে পিঁজরায় পৃরিয়া- ছেন।” পু

বৃদ্ধ বলিল, “ভাল কথা মনে ! ঠাকুর) ছুঃখের কখা কি বলিব! একটা পাগল পথে পথে ভিক্ষা করিয়া বেড়াত, কাঁহা- রও অনিষ্ট করিত না, তাঁহাঁকে ধরিয়া না কি বাঘের মুখে দিবার হুকুম হইয়াছিল। শেষ কে চুড়াখন বাবু আছেন, তিনিই না কি তাঁহাঁকে রক্ষা করেন। তথাপি দেওয়ানজীর পরামর্শে রাজা তাহাকে পিঁজরায় বদ্ধ করিয়াছেন বাঁঘের পার্খে রাখিয়া ছেন, সে একপ্রকার বাঘের মুখেই দেওয়া! এতক্ষণ হয় বাঘ তাহাকে উদরে পুরিয়াছে। আমি স্বচক্ষে দেখিয়া আসি- য়াছি, বাঘ তাহাকে দেখিয়া লাফাইতেছে, বখপাইতেছে, এক একবার গরাদের উপর ছুই পা দিয় দীড়াইয়া পিতমকে দেখি- তেছে আর হা করিতেছে ।”

বালক বলিল, “এক পাশে বাঘ, এক পাশে ভালুক ।”

বৃদ্ধ। কি আপশোষ, কি আপশোষ ! এত পাপ! পৃথিবী আর বহিতে পারিবেন কেন ! রাজ্য আর থাকে না!

ব্রক্মচারী কোন উত্তর দিলেন ন। কতক দূর অন্যমনস্ক চলিলেন, পরে যখন উত্তর দ্বিবার নিমিত্ত পশ্চা ফিরিলেন, খন দেখিলেন, গ্রাম্য লোকের অন্য পথে চলিয়! গিয়াছে। ব্রহ্মচারী কতকক্ষণ তথায় দাড়াইয়া রহিলেন, শেষ কি মনে করিয়! শাস্তিশত গ্রামের দিকে প্রত্যাবর্তন করিলেন

রাত্রি প্রায় দেড় প্রহর অতীত্ত হইলে পর ব্রহ্মচারী দেও- যানজীর অতিথিশালাঁয় প্রবেশ করিলেন। তৎসম্বাদ শুনিয়! দেওয়াঁনজী তথায় উপস্থিত হইলেন। প্রণাঁম করিয়া বসিলে ব্রহ্মচারী জিজ্ঞাসা করিলেন, “সমস্ত কুশল $,»

$ ৩হ্‌ মাধবীলতা

দেওয়ান। মহাশয়ের শ্রীচরণপ্রসাদদে সকলই কুশল বলিতে হুইবে।

ব্রহ্মচারী তাহা শুনিলেই আমাদের স্বখ। অনেক দিন দেবি নাই, কোন সম্বাদও লইতে পারি নাই, তাহাই একবার আসিলাম। "*

দেওয়ান /লইগ্রহ আপনার

ব্রহ্মচারী ' রাজার কুশল?

দেওয়ান শারীরিক কুশল বটেই, মানসিক মন্দ বলিয়া বোধ হয় না।

ব্রহ্মচারী রাঁজকার্ধ্য সম্বন্ধে কিরূপ?

দেওয়ান। তাহাও মন্দ নহে। ভবে বোধ হয় ইদানীং সকলেই তাহার মঙ্গলাকাজ্ী ন্‌

্হ্ষচারী। আমি তাহা কতক বুঝিয়াছি। তবে সবিশেষ জানি না, এক্ষণে শুনিতেও বড় ইচ্ছা! করি না, মনে জাঁনি যে, যখন আপনার ন্যায় বুদ্ধিমান ব্যক্তি রাজার পরামর্শী, তখন তাহার মঙ্গলই সম্ভব, সকল বিপদ হইতেই উদ্ধার হইবেন। তবে বোধ হর বিপক্ষদল কিঞ্চিৎ প্রবল হুইয়? থাকিবে অথব! তাহাদের কার্যকারিতা শক্তি কিছু বৃদ্ধি পাইয়া থাকিবে

দেওয়ান তাহ! সত্য, এই মাত্র তাহাঁর পরিচয় পাইয়াছি।

্রঙ্মচারী। কিরূপ?

দেওযান। রাজার প্রতি যাহাতে প্রজার শ্রদ্ধা কমে এরূপ অপবাদ রটাঁন হইতেছে। তাহ! হউক, এরূপ হইয়াই থাকে, তাহার নিমিত্ত আমি বড় ব্যস্ত নহি, কিন্ত এক কথার নিমিত্ব আমার কিছু সন্দেহ হইয়াছে। সন্ধার সময় রাজ ব্রাহ্গণ- কন্তাকে ক্রোড়ে করিয়াছেন, কিন্তু রাত্রি এক প্রহর হইতে না হইতেই দে কথ। বিক্কৃত প্রাপ্ত হইয়া দেশ রাষ্ট্র হইয়াছে।

গু মাঁধবীলতা | ৩৩

ব্ষচারী। যখন আপনি সকল বুবিয়াছেন তখন আর ভাবনার বিষয় কিছুই নাই। এক্ষণে আমি আশ্রমে যাই।

দেওয়ানজী প্রণাম করিয়া ব্রক্মচারীকে বিদায় দিলেন। অব- স্থিতি করিতে অনুরোধ করিলেন ন1।

পরদিবন প্রাতে একজন চোপদাঁর রামসীতাঁর পাঁড়ায় রাঁজ- পথে আসিয়া দাড়াইল। তাহার হস্তে মুসলমানি গঠনের এক দীর্ঘ শূল ছিল,তাহা সজোরে মৃত্তিকায় প্রহার করায় শূল প্রোথিত হইয়া বিনাম্পর্শে দাড়াইয়া। রহিল। তখন চোপদার অতি গম্ভীর ভাবে সেই স্থানে পাদচাঁরণ কুরিতে আরস্ত করিল। পললীস্থ অধিবাসীরা একে একে তথায় আঁসিয়! উপস্থিত হইতে লাগিল।