ডনজ্লাস্পেক্স স্পা

শ্রীচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

এম, সি, সরকার এগ সন্স ৯০।২ হ্যারিসন রৌড, কলিকাতা

১১৩০

মুল্য ১/৮০

প্রকাশক শরীস্থধীরচন্দ্র সরকার পক্ষে এম, সি, সরকার এগু সন্ন ১০।২এ স্যারিসন রোড, কলিকাত| |

কান্তিক প্রেস ২২, স্ুকিয়! ্রীট, কণিকা! শ্রীকমলাকাস্ত দ্াল!ল কর্তৃক মুদ্দ্রত

্র্গগত্ত সত্যেত্দরনাথ দত্ত

শহ্বংসত্তমেষু

ভাই সত্যেন,

তুমি যে আমার কত আপনার আবশ্তক ছিলে তা প্রতি- দিনের অভাবে ক্রমে ক্রমে স্পষ্টতর বুঝতে পারুছি। তোমার বিচ্ছেদ-বেদনা নিত্য নবীন হয়ে আছে। প্রতিদিন আমি তোমার সঙ্গে পরলোকে মিলনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি এই সান্বনা।

তোমারই নাম-রাখা যে বই লিখতে লিখতে তোমার অস্থখে বন্ধ করেছিলাম, তা আজও বহু চেষ্টাতেও শেষ কর্‌তে পারিনি। আজ তোমার সাম্বংসরিক-শ্রাদ্ধ-দিনে তোমাকে কিছু দেবার জন্তে তাড়াতাড়ি পরের লেখা ধার করে” নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। তুমি অন্বাদের জাছুগর ছিলে, তোমাকে এই তুচ্ছ উপহার দিতে সস্কোচ বোধ করুছি। কিন্তু ব্যথিত বন্ধুর অদ্ধা- উপহার তুমি অবহেলা করুবে না আমি জানি।

কলিকাতা তোমার সধ্যগর্তিত চারু ১০ই আধাঁঢ, ১৩৩০

কৈফিয়ৎ

এই উপন্যাসের নায়ক মীর খা! এঁতিহাসিক সত্য ব্যক্তি। তাহাকে মৃত বা জীবিত ধরিবার জন্য ব্রিটিশ-গভমেন্ট, বড়োদা-রাজ পাচ পাচ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করিয়া” ছেন। মীর খা হিন্দুকুশ হইতে বড়োদা-রাজা পধ্যন্ত নিজের প্রভাবে ভীতিপ্রদ হইয়া! বিচরণ করে। আজ পধ্যস্ত কেহ তাহাকে গেরেপ্তার করিতে পারে নাই। এই মীর খায়ের নাম কীন্তিকাহিনী আঞ্জকালকার খবরের কাগজে প্রায়ই দেখা যায়।

এই মীর থা ভারতসীমান্তের আরো অনেক ডাকাতের নাম কাহিনীর পক্ষে স্পেন দেশের একটি গল্প মিশাইয়া এই বই লিখিরাছি। স্পেন দেশের সেই গল্পটি অবলম্বন করিয়া ফরাসী ধপন্তাসিক প্রম্প্যাব মেরিমে কোমেন নামে একটি উপন্তাযু লেখেন এবং ফরাসী নাট্যকার জর্জ, বিজে একখানি নাটক লিখিয প্রসিদ্ধ হন। সেই নাটক ইংরেজীতেও অন্বাদিত অভিনীত হয়, অল্পদিন আগে কলিকাতাতেও অভিনীত হইয়া গিয়াছে

আমর(ইই বইএর বর্ণনার সঙ্গে পাঠকপাঠিকাদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় করাইবার জন্য পঞ্ধাবসীমান্তের লোক স্থানের কয়েকটি ছবি পুস্তক-মধ্যে সন্নিবেশিত করিলাম প্রবাসী-সম্পাদক পৃজনীয় শ্রীযুক্ত রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় অনুগ্রহ করিয়া প্রবাসীর কয়েকখানি ব্লক ছাপিবার অস্মতি দিয়া আমাদের কৃতজ্ঞতা ভাজন্‌ হইয়াছেন। প্রচ্ছদপটের পরিকল্পনাটি প্রসিদ্ধ চিত্রকর, আমার ন্েহভাজন বন্ধু, শ্রীযুক্ত চার্চন্্র রায়ের

এই লেখকের খেলা

উপন্যাস -। আোতের ফুল দ্বতীয় সংস্করণ) ২1০ ২। পরগাছ৷ (“দ্বিতীয় সংস্করণ ) ১৪০

৩। যমুনা-পুলিনের ভিথারিণী

(তৃতীয় সংস্করণ) ১২ ৪| হেরফের (দ্বিতীয় সংস্করণ ) ১৪০ ৫। চোরকীটা ( দ্বিতীয় সংস্করণ) ২২ ৬। আলোক-লত! ১০ বিয়ের ফুল ১৪০ ৮। ছুই তার ১০ ৯। আগুনের ফুল্কি (ফরাশী উপন্যাসের অন্গবাদ) ১২ ১০। দোটানা ১১। মুক্তিন্সান ৩২ ১২। পক্কতিলক ১০ চেহোউগল্স ১। পুষ্পপাত্র (২য় সংস্করণ ) ১০ ২। সওগাত (২য় সংস্করণ ) ১০

৩। ধূপছায়া ৪। চীদমাল। ৫1 মণিমঞ্জীর ৬। কনকচুর ৭। বরণভাল! নিবি ১]. বেদ্বাণী ( বেদ-পরিচায়ক পুস্তক ) ২। মহাভারত (কাশীরাম দাসের, সচিত্র) ' ৩। বিষ্ণুপুরাণ ( সচিত্র, দ্বিতীয় সংস্করণ ) ৪। কাদশ্বরী ( সচিত্র, ষষ্ঠ সংস্করণ ) বত্বাবলী 9 ৬। রাবেয়া ২য় সংস্করণ) এ। পারস্ত-উপন্যাস ( সচিত্র ) ৮। রবিন্সন ভ্রুশো (সচিত্র) ৯। ঈশপের গল্প (সচিত্র) ১০। ভাতের জন্মকথা ( পদ্ঘে, সচিত্র )

00011171071 17701100101

1691888551৭ 0000 ৪5188

ভ্পক্ক্রকআমশ্শেল্ল মশা

পিপি --১৯ 74

আর্য পিতামহদের আদি বাসভূমি, প্রথম বেদ-স্ক্ত-মুখরিত গান্ধার দেশ, বৌদ্ধযুগের প্রসিদ্ধস্থান ) পাণিনির জন্মস্থান, প্রাচীন- কাঁলের বিখ্যাত বিশ্ববিগ্ভালয় তক্ষশিলা ; কৃ্ধ্যপূজ। প্রবর্তনের মূলস্থান মূলতান মগ ব্রাহ্মণদের প্রথম বাসভূমি প্রাচীন নগর পুরুষপুর বা পেশোয়ার প্রভৃতি পঞ্জাব-প্রান্তের প্রসিদ্ধ স্থানগুলি দেখিবার বাসনা বহুদিন হইতে মনে প্রবল হইয়া ছিল। আমাদের বন্ধু প্রভাস দাঁস যখন পেশোয়ারে ইস্লামিয়া কলেজে অধ্যাপক নিযুক্ত হইয়া গেলেন আমাদের টাটকা তাজা বেদানা আঙর প্রভৃতি মেওয়া খাওয়াইবার লোভ দেখাইয়া সেখানে যাইবার নিমন্ত্রণ করিলেন, তখন চারু-রায় কল্পনাতেই রস-সন্তোগ করিয়া অর্ধনিমীলিত চক্ষে মুখভরা রদ-শোষণের শব্দ করিয়া বলিষা উঠিল-_%আ-_আঃ!” চাকু চিত্রকর, সে কল্পনার রডীন

সর্ধনাশের নেশা

তুলিতে যে চিত্র অস্কিত করিতে লাগিল তাহাতে বন্ধু-মজলিশে হাসির ফোয়ারা উৎসারিত হইয়া উঠিল

একবার শীতের ছুটির পর প্রভাস-বাবুর যখন পেশোয়ারে ফিরিবার সময় হইল, তখন আর কোনো বন্ধুর তেমন উৎসাহ আগ্রহ দেখা গেল না-_ত্াহীদের সকলেরই একই উত্তর রেল- কোম্পানী বাঁওয়া-আসার খেয়ার কড়ি যাহা আদায় করিবে তাহাতে এখানে জীবন-ভোর বেদানা আউ,র সপরিবারে খাওয়া চলিবে

কবি সত্যেন্্র রঙ্গরসিক খধি-কবির উক্তি আবৃত্তি করিলেন_-

“মনে বাঞ্চা বিদেশ ভ্রমণে কিন্তু পাথেয় নান্তি ! পায়ে শিকৃলি মন উড্ু উড, একি দৈবের শান্তি ! টঙ্কা-দেবী যদি করে রুপা না রহে দুঃখ জাল]! বিদ্া বুদ্ধি কিছুই কিছু না কেবল ভস্মে ঘি ঢালা 1”

* কাহারো উৎসাহ নাই দেখিয়া আমি স্থির করিলাম__“একা! যাব পেশোয়ার করিয়া যতন!” চারু আমার সংকল্প দেখিয়! দৌমন। হইয়া দু-একবার টাল-মাটাল করিল, কিন্তু শেষ পথ্যস্ত বাড়ীর মায়া আর সে ত্যাগ করিতে পারিল না।'

সর্ধনাশের নেশা

পেশোয়ার-যাত্রীর ভ্রমণ-কাহিনী পরে পাঠকপাঠিকাদের স্থবিধামত উপহার দিব; এখন শুধু সেখানে গিয়া যে একটি নৃতন অভিজ্ঞতা অঞ্জন করিয়াছিলাম একটি নৃতন ধরণের গল্প শুনিয়াছিলাম তাহাই আপনাদের বলিব

প্রভাস-বাবু চাকরী করেন। কাজেই আমি একলাই দ্রষ্টব্য স্থানগুলি দেখিয়া বেড়াইতেছিলাম। তক্ষশিল৷ দেখিয়া জম্রুদ চলিয়াছি। আমি ছেলেবেলাতেই একটু ফার্সী পড়িয়াছিলাম ; তার পর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এম-এ পরীক্ষা প্রবর্তনের সময় বাংলার অন্যতম মৃ্লাশ্রয় ভাষা বলিয়া যখন পশতু ভাষা নির্দিষ্ট হইয়াছিল, তখন বাংলার সঙ্গে গশতুর কি সম্পর্ক জানিবার কৌতুহলে পশতু ভাষারও একটু আলোচনা করিয়াছিলাম; তার পর কোনো নৃতন দেশে গিয়। সে-দেশের ভাষার গোটা-কতক কাজ-চল! শব্ধ চু করিয়া শিখিয়৷ লইবার একট। স্বাভাবিক শক্তি আমার আছে; এই সাহসে আমি একটা পাঠানী পোষাক কিনিয়া সেদেশী সাজিয়া লইয়াছিলাম ।--টিলা অথচ প্রচুর কুঞ্চিত পাজামা, লঙ্বা টিলা কোট, পায়ে চাপি জুতা, মাথায় উচ্চ ক্রমশঃ-সরু কুল্প। টুপি ঘিরিয়া ফিরোজা রঙের জরিদার পাগড়ী পরিয়া ক.বুলীর খুড়তাত ভাই সাজিয়া চলিয়াছিলাম। দুইটা ঘোড়া ভাড়। করিয়াছিলাম, আর ভাড়া করিয়াছিলাম একজন রাহ বর বা রাহ হম! পথপ্রদর্শক; একটা ঘোড়ায় চলিতেছিলাম আমি, আর অন্য ঘোড়ায় চলিতেছিল আমার পরিচালক রাহবর

সব্বনাশের নেশ।

আমার একটা চাম্ড়ার ব্যাগ__তাহার মধ্যে ছিল এক প্রস্থ বাঁডালী সজ্জা এক প্রস্থ মুরোপীয় সজ্জা, কিছু খাগ্যসামগ্রী কবি-গুরু রবীন্দ্রনাথের খান দুই বই।

তৃণগুল্মহীন উর পার্বত্য পথে বরাবর চড়াই উতরাই চড়িয়! নামিয়৷ শরীর ক্লান্ত হইয়। পড়িয়াছিল, মাথার উপর স্করধ্য অসহ বোধ হইতেছিল, তৃষ্ণায় ছাতি ফাটিয়া যাইতেছিল-_সঙ্গে থার্মস্‌ বোতলে থে জলটুকু ছিল তাহার শেষ বিন্দুটুকুও অনেকক্ষণ আগেই শ্ুষিয়া গল| ভিজাইয়াছি। তখন আধ্য পিতামহদের প্রতি মনের ভাবকে ভক্তি এবং ইতিহাসের প্রতি মনের ভাবকে অঙ্থরাগ কিছুতেই বলা যায় না! অন্পদূর গিয়াই পথের পাশে একটা জায়গায় কয়েকটা গাছ, বিচ্ছিন্ন লতাগুল্স সবুজ ঘাস দেখিয়া চোখ যেন জুড়াইয়। গেল, তৃষ্ণ যেন অর্ধেক উপশম হইল; এতক্ষণ কেবল পাথর আর কাকর দেখিয়। দেখিয়৷ চোখ ষেন কর্করু করিতেছিল। আমার পরিচালক রাহবর সেই জায়গাটা দেখিয়াই বলিয়া উঠিল__সাহেব, এখানে পানী পাওয়া যাইবে, ওখানে ফওয়ারা আছে।

আমি ঘোড়ার লাগাম টানিয়াছিলাম কি ন! ঠিক জানি না, ঘোড়া যেন আমার মনের বাসনা বুঝিতে পারিয়া নিজের ইচ্ছাতেই পথ ছাড়িয়া সেই বৃক্ষচ্ছায়াশীতল শঙ্পান্তীর্ণ জলসিক্ত স্থানটির দিকে অগ্রসর হইল। একটা পাহাড়ের দেওয়াল ঘুরিয়া ফিরিতেই দেখিলাম সেই পাহাড়ের পায়ের তলায় খানিক দূর পর্যন্ত ছড়াইয়! পড়িয়া অল্প জল জমিয়া আছে,এবং ছুটি পাশাপাশি

সর্বনাশের নেশা!

খাড়া পাহাড়ের মাঝখানের সরু গলি দিয়! একটি ক্ষীণ জ্ধারা বহিয়৷ আলিয়া সেই জলায় পড়িতেছে পাহাড়ের গলির মধ্যে কিছুদূর অগ্রসর হইলে-বর্ণার মূল উৎস না পাইলেওস-আবদ্ধ জলার জল অপেক্ষা শ্োতের ভালে! পরিফার জল গাইব বিবেচনা! করিয়া আমি সেইদিকে ঘোড়াকে অগ্রসর হইতে ইন্জিত করিলাম, কিন্ত সে বেচারার আর তর্‌ সহিতেছিল না সে জলার ঘোলা জলেই গল! ভিজাইয়া লইবার আগ্রহ প্রকাশ করিতে লাগিল। আমি তাহার উদ্েশ্ বুঝিতে না পারিয়া তাহাকে অগ্রসর হইতে আবার তাগাদা করিত্েই সে বিরক্তিকর্কশ স্বরে চীৎকার করিয়া উঠিল। . ঘোড়ার হবষোরবের জবাবে আর-একটা ঘোড়া নিকটেই কোথায় ডাকিয়! উঠিল__আমি কিছ্ধু সে ঘোড়াটাকে কোথাও দেখিস্ছে পাইলাম না।

আমি পাহাড়ের মধ্য দিয়া একশ কদম অগ্রসর হইতে দা হইতেই এক অপরপ ৃশ্ঠ আমার চক্ষুর সম্মুখে উন্ুক্ত হইয়া পড়িল! একটা গোল জান্নগা ঘিরিয়! ঢালু পাহান্ত বৃত্তাকার গাড়াইয়া আছে, ঘটের মুখের মত্তন একদিকে কেবল একটু সরু গলি-পথ সেই গোল সমতল ক্ষেত্রের সহিত বাহিরের সংযোগের সুবিদ করিয়া রাখিয়াছে; ঢালু পাহাড়ের গ! ঘাস গুন্মলতায় দমগাচ্ছন্ লবুজ্, তাহার একদিকৃকার বুক চিরিয়া গলা হীরার ধারার মূ একটা ঝর্ণা ক্ষীণ ধারায় উৎসারিত হইয়া! গার হইতে পাথরে ঝাপ দিতে দিতে পর্বতপাঁদমূলে ঝরিয়। পড়িতেছে। পিগাসার্ষ

চি

সর্বনাশের নেশ।

পথশ্রান্ত পথিকের বিশ্রামের জন্য মাতা বন্ধন্ধরা' যেন ভার কোমল কোল পাতিয়৷ বক্ষাম্ৃত ক্ষরণ করিতেছেন ! কিন্তু এই মনোরম স্থান আবিষ্কার করার গৌরব আমার একার নয়। একজন লোক আগেই আসিয়। সেই স্থানের কোমল শক্পশয্যায় শুইয়া বিশ্রাম করিতেছিল--আমি সেখানে আসার আগে বোধ হয় ঘুমাইতেছিল। ঘোড়ার চীৎকারে তাহার নিপ্রার ব্যাঘাত ঘটিয়াছিল; আমাকে তাহার বিজন বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটাইতে অগ্রসর হইতে দেখিয়া সে উঠিয়া তাহার ঘোড়ার কাছে গেল। ঘোড়াটি তাহার প্রতৃর নিদ্রার অবসরে ক্ষুধা তৃষ্ণা নিবারণের প্রচুর আয়োজন দেখিয়া প্রয়োজনাতিরিক্ত সঞ্চয়ে বাপৃত ছিল। সেই লোকটি যুবক, মাঝারি আকারের, দৃঢ়- গঠন, বলিষ্ঠ তাহার সুন্দর মুখ রৌদ্রদপ্ধ, চিন্তা, ছুঃখমলিন, কিন্তু গর্বব্যপ্তক | তাহার কোমরে একটা ছোরা, হাতে একটা! প্রকাণ্ড বন্দুক, গলায় একটা চামড়ার কাবুলী ব্যাগ হাত গলাইয়া ডান পাশে ঝোলানো!

বাস্তবিক বলিতে কি, এই বিজন স্থানে অস্ত্রধারী লোকটির ত্স্কর মৃত্ঠি দেখিয়া আমার হৃৎকম্প হইয়াছিল-_লোকট৷ ডাকাত না কি! এই পার্থাড়িয়া দেশে পাঠান আফ্রিদি ওয়াজিরি মাস্তদ ওরাকৃজাই কাবুলী বেলুচী ব্রাহুই যাহাকেই দেখি তাহাকেই ডাকাত বলিয়া আতঙ্ক হইতে হইতে ডাকাতের ভয়টা৷ একরকম গা-সহা৷ হইয়া গিয়াছিল; আর লোকটা যদি বাস্তবিকই ডাকাত হয় তবে আমার সম্বল ব্যাগটা লইয়া তাহার বিশেষ কিছু লাভ

ঙ৬

সর্বনাশের নেশা

বা আমার বিশেষ কিছু ক্ষতি হইবে না-_বাঙালী বা সাহেবী পোশাকেই বা তাহার কি দরুকার, আর রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থ আমার কাছে বহুমূল্যবান্‌ হইলেও তাহার কাছে উহার কি বা মূল্য!

এই কথা ভাবিয়া লইয়া আমি সেই লোকটিকে সেলাম করিয়া বলিলাম-_সেলাম আলেকম্‌ আঘা! ম্মামি কি আপনার বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটাইলাম ?

লোকটা আমার সম্ভাষণের কোনে। জবাব না দিয়! রূঢ় স্থির দুতে একবার আমার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করিল; তার পর যেন আমার সম্বন্ধে নিশ্স্ত সন্তষ্ট হইয়া আমার সহচর পরিচালকটিকেও ঠিক সেই একই রকম সন্দিহান দৃষ্টিতে পরীক্ষা করিয়া লইল। আমার পরিচালক রাহবর আমার কিছু পিছনে পড়িয়া গিয়াছিল। আমি দেখিলাম সে অগ্রসর হইতে হইতে ঘোড়ার লাগাম টানিয়া থম্কিয়া দীড়াইয়াছে, তাহার মুখ ফ্যাকাশে পাংশুবর্ণ হইয়া গিয়াছে, তাহার চোখে মুখে সর্বাঙ্গে বিষম ভয়ের গভীর কালো ছায়৷ পড়িয়াছে। তাহার ভয়ন্তস্তিত মৃণ্তি দেখিয়! আমারও ভয় হইল-_বুকের মধ্যট! একবার গুড়গুড় করিয়া উঠিল, ভাবিলাম_কী ছুর্দেব! বিষম অযাত্র। দেখিতেছি!

কিন্তু তখনই স্থবুদ্ধির পরামর্শে সাবধান হইয়া ভয় বা বাহ্িক চাঞ্চল্য দমন করিয়া ফেলিলাম। আমি ঘোড়া হইতে নামিয়া পড়িলাম, আমার পরিচালক রাহ মাকে ঘোড়। ছুটাকে খুলিয়া

সর্বনাশের নেশঃ

ছাড়িয়া! দিতে বলিয়া ঝর্ণা-ধারার মধ্যে সমস্ত মাথাটা ডুবাইয়া জলপান ম্নান করিতে লাগিলাম।

আমার চোখ কিন্ত ছিল আমার রাহবর অচেন! লোকটির দিকে রাহ্বর অগ্রসর হইয়া আসিতেছিল বটে, কিন্তু ভয়ে অবিশ্বাসে ইতম্তত করিতে করিতে আমাদের প্রতি অপরিচিত লোকটির কোনো বিরুদ্ধভাব প্রকাশ পাইল না, লে ঘোড়ার লাগাম ছাড়িয়া! দিয়া বন্দুকের নল নীচু করিয়া এবার সহজভাবে দাঁড়াইয়া আমাদের দেখিতে লাগিল।

সে যে আমার সম্ভাষণের জবাব দেয় নাই বা আমাকে প্রতি- নমস্কার করে নাই, তাহার এই তাচ্ছিল্য গ্রান্থ না করিয়া আমি রুমালে মাথা মুছিয়া পুরু ঘাসের বিছানায় চিতপটাং হইয়া শুইয়া পড়িলাম, এবং পকেট হইতে সিগার-কেস বাহির করিকা একট। চুরুট লইয়া দাতে তাহার এক প্রান্ত কাটিতে কাটিতে অপরিচিত লোকটিকে জিজ্ঞাসা করিলাম_-আপনার ব্যাগে দেশলাই কি চক্মকি আছে?

সে তখনো একটিও কথা না বলিয়৷ তাহার ব্যাগ খুলিয়া তাহার মধ্যে হাতড়াইতে হাতড়াইতে আমার নিকটে আসিল এবং ব্যাগ হইতে একটা চক্মকি পাথর, একটা লোহা এক টুক্রা সোলা বাহির করিয়া সোলায় আগুন ধরাই, এষং সোলায় ঘন ঘন ফুঁ দিতে দিতে আমার চুরুটের কাছে ধরিল। কিন্তু সে তখনো বন্দুক ছাড়ে নাই, এক হাতে ধরিয়াই ছিল।

আমার চুরুট ধরানো হইলে, আমি আমার সিগার-ক্ষেস্‌

সর্ধনাশের নেশা

হইতে সফ-চেয়ে ভালো একটি চুরুট বাহির করিয়া অপরিচিতের দিকে বাড়াইয়া ধরিয়া বলিলাম--আপনি কি অন্থগ্রহ করিয়া একটা চুরুট গ্রহণ করিবেন? সে চুরুটটা গ্রহণ করিয়া এইবার প্রথম কথা কহিল-_“লুৎ্ফ- ই-শুমা জিয়াদ্‌ (আপনার অশেষ অন্ধুগ্রহ )1” এবং একটু নত হইয়া সেলাম করিল। এবং চুরুটটা ধরাইয়৷ আবার নত হইয়া সেলাম করিয়া পরম পরিতোষের সহিত চুরুটের ধূমপান করিতে লাগিল। খানিকক্ষণ পরে একটা সথখটান টানিয়। নাক মুখ দিয়া কুগুল।- কৃতি ধোয়া ছাড়িয়া সে বলিল যে বহুত রোজ সে তাম্বাকুর আম্বাদ পায় নাই; আজ আমার মেহেরবানীতে তাহার দিল্‌ বড়ই খুশী হইয়াছে! অপরিচিত ব্যক্তি কাহারো৷ নিকট হইতে তামাক লইলে তাহাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হইল বলিয়া বুঝাই এ-দেশের রীতি। স্ৃতরাং এই ডাকাত যে আমার হাত হইতে টুরুট লইল তাহাতে আমার বুকের উপর হইতে একটা জগদ্দল পাথরের মতন গুরুভার বিষম ছুর্ভাবনা নামিয়৷ গেল। লোকট!| খুব বক্তা সে মুখ খুলিয়াই আমার সঙ্গে খুব বকিতে আরম্ভ করিল। আমার ফার্সী-পশতু ভাষার পুজি শীদ্রই ফুরাইয়া গেল। আমি যে বিদেশী তাহা ধরা পড়িয়া গেল। আমি এখন ফার্সী পশতু উর্দু হিন্দীর খিচুড়ি বানাইতে লাগিলাম। সে বলিল যে সে এদেশী ওরাকৃজ্জাই জিগ্গার লোক,

সর্ধবনাশের নেশ।

কিন্ত আমার তাহা বিশ্বাস হইল না) কারণ সে এই স্থানের নাম বলিতে পারিল না, নিকটে কোথাও গ্রাম বা লোকালয় আছে কি না তাহা সে জানে না, এবং তক্ষশিলা পুরুষপুর বা মৃলস্ান সম্বন্ধে কোনো সংবাদ তাহার জানা থাকিবার কথাই নহে। গল্প করিতে করিতে লোকটি আমার ঘোড়ার সঙ্গে নিজের ঘোড়ার তুলন। করিয়া বলিল__“আপনার ঘোড়াটা কোনো কর্মের নয়।” আমার বাহনটির এই গুণ আবিষ্কার করাতে কাহারো যে কিছুমাত্র বাহাদুরীর পরিচয় দেওয়া হয় বিশ্বাস না থাকাতে আমি ঈষৎ হাস্য করিলাম; সে বলিতে লাগিল-“কিন্ত আমার যে ঘোড়া দেখিতেছেন, উহা! একদিনে এক ছুটে আমাকে নব্বই মাইল পথ বহিয়া লই! আসিয়াছিল 1” এই কথাটা বলিয়া.ফেলিয়া লোকটি কেমন থতমত খাইয়া গেল, এই কথাটা ধেন তাহার বলা উচিত ছিল না, মে অসতর্ক হইয়া বলিয়া ফেলিয়া! অন্যায় করিয়। বসিয়াছে ! একদিনে নব্বই মাইল £দৌড়াইয়া 'যাইবার সঙ্গত কারণ দেখাইবার জন্য সে বলিল-_ একটা তামাদির মকদ্দম| ছিল-_সেদিন পেশোয়ার না পৌছিলে বড়ই লোক্সান হইয়া যাইত এই কথা বলিয়াই সে আমার মঙ্গী রাহন্তুমা পরিচালকের দিকে তাকাইল। রাহ বব তাহার দৃষ্টির আঘাতে চোখ নামাইয়া দৃষ্টি নত করিল। অপরিচিত লোকটার বকুনিতে আমি ক্লান্ত হইয়৷ পড়িয়্াছিলাম। এই ছায়াশীতল স্থানে বর্ণার ঝরঝরানি

৯০

সর্বনাশের নেশা

খুমপাড়ানি গান আমার সমস্ত চেতনা আচ্ছন্ন করিয়া আনিতেছিল। আমি একটু কিছু খাইয়া একটু ঘুমাইয়া লইব স্থির করিলাম। আমার ব্যাগ খুলিয়া একটা কোটা হইতে তোফা ধি-মাখা মোটা রুটি, মাংসের কালিয়া, খানিকটা পেস্তা-বাদাম-কিশমিশ-দেওয়া বাদ্শাহী হালুয়া বাহির করিয়া একখানি কাগজের উপর রাখিলাম। এদেশের নিয়ম থাইবার সময় উপস্থিত বা আগন্তক লোককে আহারের ভাগীদার হইতে আমন্ত্রণ করিতে হয়; নিমন্ত্রণ না করা শত্রুতার লক্ষণ আমি অপরিচিতকে নিমন্ত্রণ করিয়া বলিলাম__মেহেরবানী করিয়া আমার সঙ্গে কিছু খানা খাইবেন কি?

এদেশের নিষ্বষে কাহারে নিমক খাওয়া তাহার সঙ্গে অচ্ছেদ্য বন্ধুত্বে বদ্ধ হওয়া একই কথা। যাহার মনে অনিষ্টঅভিসন্ধি ব1 শত্রুতা করিবার বাসনা থাকে সে কিছুতেই নিমক খাইতে স্বীরুত হয় না। কিন্তু সেই অপরিচিত তৎক্ষণাৎ রাজি হুইয়! নৃত হইয়। সেলাম করিয়া আবার বলিল-_“লুৎফই-শুম| জিয়াদ 1” এবং এই বলিয়াই সে ক্ষুধিত ব্যাঘ্রের মতন হাউ হাউ করিয়া রোটি- গোশত গিলিতে লাগিল। তাহার খাওয়ার ব্যগ্রতা ধরণ দেখিয়া স্পষ্টই বুঝিতে পারিলাম বেচারা অন্ততপক্ষে ছুদিন অনা- হারে ছিল! মনে হইল তাহাকে বাচাইবার জন্যই ভগবান আজ আমাকে এখানে প্রেরণ করিয়াছেন। তাহার ক্ষুধার বহর আহারের আগ্রহ দেখিয়া আমি অল্পই খাইলাম আমার সঙ্গী পরিচালক আরো! কম খাইল এবং একটিও কথা বলিল না,

১১

সর্বনাশের নেশা

যদিও সার! পথ সে বকর-বকর করিয়৷ বকিয়া আমাকে জালাতন করিতে করিতে আসিয়াছে আমার অপরিচিত অতিথির উপস্থিতি যেন তাহার বাকুরোধ করিয়া দিয়াছিল এবং একটা কিসের অবিশ্বাস সন্দেহ যেন তাহাদের উভয়কেই পীড়া দিয়া গা মেলিতে দিতেছিল নী। ইহীর কারণ আমি আন্দাজে কতক কতক ঠাহর করিতে পারিতেছিলাম-_অপরিচিত লোকট। বোধ হয় খুনী ডাকাত এবং আমার পরিচালক বোধ হয় উহাকে চিনে সে যাই হোক, আমার কিন্তু আর ভয়ের কিছুমাত্র কারণ নাই, খুনী ডাকাত আমার হাত হইতে লইয়া তামাক খাইয়াছে এবং আমার সঙ্গে এক পাত্রে নিমক খাইয়াছে। এখন সে আমার দোস্ত, !

আহার শেষ করিয়া! আমর! উভয়ে আবার চুরুট ধরাইলাম। আমি পুরু ঘাসের গালিচার উপর সটান শুইয়া পড়িয়৷ আমার পরিচালককে ঘোড়ায় জিন কষিতে বলিলাম

পরিচালক তৎপরতার সহিত আমার আজ্ঞা পালন করিয়! ছুই হাতে দুই ঘোড়ার মুখ ধরিয়া টানিতে টানিতে আসিয়া! হাজির, সে যেন এখান থেকে পালাইতে পারিলে বীচে।

আমি অপরিচিতকে সেলাম করিয়া বিদায় লইলাম--পুদা হাফিজ ( ভগবান্‌ আপনাকে রক্ষা করিবেন )!

অচেনা লোকটি এবার প্রতিনমস্কার করিয়া আমাকে জিজ্ঞাসা করিল--আজ রাত কাটাইবেন কোথায়?

আমি আমার পরিচালকের ইসারার নিষেধ বুঝিবার আগেই

সর্বনাশের নেশা

বলিয়৷ ফেলিলাম-_খাইবার-পাসের অপর মুখে ডাক্কা পর্যাস্ত যাইতে না পারিলে পথেই কোনো! সরাইয়ে রাত কাটাইব।

সে বলিল-ডাকা পর্য্যন্ত আজ যাইতে পারিবেন নাঁ সন্ধ্যার আগে অতদূর যাওয়া ঘোড়ার কর্ম নয়। পথে চটটিতেই থাকিতে হইবে কিন্তু আপনার মতন আমীর ব্যক্তির বাসের উপযুক্ত স্থান এখানকার চটি নয়। আমিও এঁ পথের রাহী, আমাকে যদি আপনার রাহবরী করিতে দেন আমি আপনার সঙ্গী হই।

“থুশীসে” বলিদ্ধা আমি ঘোড়ায় উঠিয়া পড়িলাম। আমার রাহবর আমার ঘোড়ার মুখ ধরিয়া দাঁড়াইয়া ছিল, সে আবার আমাকে ইঙ্গিত করিল। আমি সে ইঙ্গিতের উত্তরে কেবল একটু হাপিয়া তাহাকে জানাইলাম ঘে আমার মন বে-পরোয়! নিশ্চিন্ত আছে।

আমর! রওয়ানা হইলাম

আমার রাহ বরের রহস্তপূর্ণ ইঙ্গিত তাহার অস্বস্তির ভাব, অপরিচিত পথের দাখীর ছুশ মন চেহারা একদিনে ৯« মাইল ঘোড়দৌড়ের খবর এবং তাহার একটা গৌজামিল কারণ প্রদর্শন আমার মনের মধ্যে আমীর পথের সাথী অতিথির সম্বন্ধে একটা পরিষ্কার ধারণা জন্মাইয়! দিয়াছিল যে সে একজন ডাকাত এবং আমরা তাহার পাল্লায় পড়িয়াছি। কিন্তু তাহাতে কি? আমি বন্ধু প্রভাস-দাসের কাছে দেশের গল্প শুনিয়া বুঝিয়াছিলাম দেশের যে লোক কাহীরো সঙ্গে এক পাত্রে নিমক খায় সে লোক

১৩

সর্বনাশের নেশ!

কখনো তাহার অনিষ্ট করে না। স্থতরাং এই ডাকাত হইতে আমার ভয়ের কোনে! কারণই নাই,ধরং সে সঙ্গে থাকাতে অপরের কাছ হইতেও আমার কোনে অনিষ্ট হইবার আশঙ্ক। নাই, আমার পথ একেবারে নিরাপদ্‌। অধিকত্ত একজন সত্য- কারের ডাকাতের সঙ্গে পরিচয়ের স্থযোগ হওয়াতে আমার উপন্তাসিক মন খুশীই বোধ করিতেছিল। ডাকাতের সাক্ষাৎলাভ স্থলভ স্পৃহণীয় নয়) সেই ডাকাত যখন তাহার ভয়ঙ্করতা- বঞ্জিত হইয়। দেখা দেয় তখন হিং বাঘ পোষার আনন্দ অজ্জন করা যায়।

আমি স্দূর বাংল! মূলুকে মসীজীবী নিতান্ত নিরীহ প্রাণী, ন-তাকৎ দুবলা, কাহারো! বগড়া-ঝঞ্ধাটের ত্রিসীমানায় থাকি না _ গল্প লিখিয়া রুজি রোজ গার করি,_পাঁচ হাজার বৎসর পূর্বে এইদেশে আমাদের পূর্বপিতামহদের বাসস্থান ছিল, তাহারই পয়মাল বা ধ্বংস-চিহ্ন দেখিতে এই দেশে আসিয়াছি,_ইহা শুনিয়া আমার নূতন বন্ধু হঠাৎ এমন করিয়া হাসিয়া উঠিল যেন কেউ একটা বাঁশকে বিষম বলে চড়চড় চড়চড় চড়াৎ করিয়! অকম্মাৎ চিরিয়! ফেলিল। সেই হাসিতে আমার রাহ্‌বর এমন চমকিয়া উঠিয়াছিল যে সে ঘোড়া হইতে আর-একটু হইলে পড়িয়াই যাইত

আমার ডাকাত বন্ধুর মনে আমার নিরীহতা অকর্্ণযতা সম্বন্ধে আর সন্দেহ নাই দেখিয়। আমি এদেশের ডাকাতদের গল্প পাড়িলাম। অবশ্য খুব সম্্রম শ্রদ্ধান্ুচক ভাষায়। আমার

১৪

সর্ধনাশের নেশ!

রাহ্‌বর বারদ্বার ইসারা করিয়া আমাকে নিবৃত্ত হইতে অন্গুরোধ করিলেও আমি থামিলাম না দেখিয়া সে বেচারার মুখ একেবারে চুন হইয়া গেল। এই সময়ে এই অঞ্চলের মীর খা নামে এক ভাকাতের কথা স্থুদূর বাংলা দেশের কাগজে পর্যন্ত বিঘোষিত হইতেছিল; গবমেন্ট, তাহাকে গেরেপ্ার করিতে নাপারিয়া পাচ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করিয়াছিলেন। আমার কেমন মনে হইল-_-এই লোকটাই যদি সেই মীর খা হয়! আমি সেই মীর খাঁর যত কীত্তিকাহিনী কাগজে পড়িয়াছিলাম বা দেশে আসিয়! লোকের মুখে শ্তানয়াছিলাম, তাহা হইতে প্রশংসাস্থচক আখ্যায়িকাগুলি বাছিগা বাছিয়া বলিতে লাগিলাম এবং মধ্যে মধ্যে এই ব্যাপারের নায়কের সদাশয়তা বীরত্বের তারিফ করিতে লাগিলাম।

“মীর খা একটা রেজলা কমিন! ভবঘুরে !”-_আমার পথের সাথী উদাসীন ভাবে বলিল।

আমি মনে মনে বলিলাম--“এ কথা কেবল বিনয় প্রকাশ, না সত্যভাষণ?" এইব্যক্তিযে মীর খা সে সম্বন্ধে আমার আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না| প্রত্যেক থানায় থানায়, রেল- স্টেশনে ষ্টেশনে মীর খার যে ছবি টাঙাইয়া দেওয়া হইয়াছে তাহার সহিত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সাদৃশ্য আছে-_সেই চোখ মুখ, সেই দাড়ি, সেই পাগড়ী ! সে ফেরারী আসামী হইলেও দে চেহার! পোশাক কিছুরই পরিবর্তন করে নাই_এমনি সে বে- পরোয়া !

১৫

সর্ধনাশের নেশা

সন্ধ্যার সময় আমরা একটা! চটিতে আসিয়া গৌছিলাম। মীর খা যাহা বলিগ়াছিল তাহা দেখিলাম সত্য-_-এ স্থান ভত্র- লোকের বাস করিবার সম্পূর্ণ অস্থুপযুক্ত। একটা! চেটাই-ঘেরা বেঙার উপর শুক্ন চাম্ড়ার ছাউনি; পাছে দর্মার বেড়া বাতাসে উড়িয়া যার এজন্য কয়েকটা খোঁটার সঙ্গে দড়ির টানা দিয়া তাবুর মতন বাধা আছে। সেই একটি থেরের মধ্যেই মোটা কম্বলের পর্দা টাঙাইয়া কাম্র৷ ভাগ হইয়াছে ছুটি-__একটিতে থাকে সরাইওয়ালী এক বুড়ী তাহার এক কিশোরী নাতনী, সেই ঘরেই রাহ্‌গীর মূসাফিরদের বন্ধনাদি হয়; এবং অপর ঘরটি আগন্তক অতিথি মেহমানদিগের বৈঠকখানা শয়নগৃহ খাবগাহ.! ঘরের ভিতর ঢুকিয়া দেখি গোয়ালল্ঘরে সাঁজাল দেওয়ার মতন ধোঁয়ায় ঘরটি ভরা; ধোঁয়া বাহির হইবার জন্ত চামড়ার ছাদে ছিদ্রের অভাব নাই, কিন্তু বাহিরে হিমের চাপে ধোয়া আর ঠেলিয়৷ বাহির হইবার পথ পাইতেছে না। এই কুঁড়ের কুড়ি কদম দূরে আর-একটা চালা ছিল, সেটা রাহ বান্‌- দিগের ঘোড়াদিগের আশ্রয় আস্তাবল। স্তৃতরাং তাহার অবস্থা বর্ণনা না করাই ভালো।

আমরা ঘখন এখানে আশ্রয় লইলাম তখন এই চটিতে আর কোনো পথিক ছিল না। আমাদেব সৌভাগা !

সরাইওয়ালী বুড়ী আমার পথের সাথীকে দেখিয়াই কতক আহ্লাদ কতক বিম্ময়ে বলিয়া উঠিল-_আয়, বাবা মীর খা!

মীর খা ভ্রকুটি করিয়া হাত তুলিয়া হুকুমের ভঙ্গীতে চুপ

১৬

লু লি আভাস কলি সু শর লাই 355 কউ লি লাশ উদ পু আল কিল কতই ৯৫০২২ তর লালন লা চা দু সা লসর

সর্ধ্বনাশের নেশ।

করিতে ইঙ্গিত করিল। মীর খার সেই হাত যেন বুড়ীর মুখ চাপিয়৷ ধরিল__-এমনি হঠাৎ সে স্তব্ধ হইয়া থামিয়া গেল।

আমার রাহবর ব| পথপ্রদর্শক আমার দিকে তাকাইয়া এমন মুখভাঁব করিল যেন সে বলিতে চায়-আমি এতবার বলিলাম তুমি ইঙ্গিত বুঝিলে না, এখন স্পষ্ট কথায় ব্যাপারটা বুঝিলে ত?

আমি মীর খার অজ্ঞাতসারে রাহবরকে ইদারা করিয়া জানাইয়া দিলাম যে যাহার সঙ্গে রাত্রিবাস করিতে হইবে তাহার পরিচয় আমি অনেক আগে নিজেই আন্দাজ করিয়া লইয়াছিলাম।

মীর খাঁ বৃদ্ধ'কে বলিল--মামা, তিন আদ্মীর লীয়েক খানা বানাও আমরা বহুত ভূখ! হইয়াছি এই বুঝিয়৷ পরিমাণ স্থির করিবে।

এই কর্য শৃওরের খোয়াড়ে রাত্রির আহারটা নেহাৎ মন্দ হইল না,_মোটা রোটা, ছুষ্বা-ভেড়ার গোশত, কাবাব, ফির্ণি পোলাও, খাগিনা বা ডিম-ভাজা, আর মেওয়া--পেস্তা বাদাম আখরোট্‌ কিশমিশ, সেব অতি সুমিষ্ট সী তরুমূজ ! একটা কম্বল পাতিয়া মেঝেয় বসিয়া গ্রচুর আহার পরিতোঁষের সহিত করা গেল।

আহারাস্তে আচমন করিয়া আবার সেই কশ্বলে আসিয়া বসিলাম। কিশোরী বৃদ্ধা আমাদের উচ্ছিষ্ট পরিফার করিতে- ছিল। আমি তাহাদের দেখিতে দেখিতে ভাবিতেছিলাম--

রর ১৭

সর্বনাশের নেশা

ইহারা হয়ত আমাদের আধ্যা পিতাম্হী গান্ধারীর পিতৃবংশের কেহ হইবে।

ঘরের এক কোণে একটা খপ্ধনী টাঙানো ছিল। তাহা দেখিয়া আমি কিশোরীকে বলিলাম-_মামক, তুমি গান করিতে পার?

এদেশে বৃদ্ধাদের সাধারণ ডাক-নাম মাম! অর্থাৎ মাতা এবং বালিকাদের ডাক-নাম মাঁমক অর্থাৎ ছোট ম] বা ছোট বুড়ী।

মামক নিজে গান করিতে পারে কি না তাহার কোনে! জবাব দিয়া একটু ইতস্তত করিয়া ভয়ে ভয়ে মীর খার দিকে চাহিতে চাহিতে বলিল-_খা-সাহেব খুব উম্দা গান করিতে পারেন।

আমি খা-সাহেবকে বলিলাম-__আপনি মেহ্রবানী করিয়া একটা গান গাহিবেন/ আমি আপনাদের গান শুনিতে পাইলে থুশী হইব।

মীর খা বলিল--এমন ভদ্র দোস্তের অঙ্গরোধ আমি অবহেলা করিতে পারি না। আমি আপনার খাসা খানা তান্থাকু থাইয়াছি, তাহার বদলে আমার কর্কশ কণের গ্রান শুনাইব সে আর বেশী কথা কি?

মামক খঞ্জনী পাডিয়া দিল। মীর খাঁ গাহিতে আরম্ত করিল :--

অণ ইয়ার কজ-উ খান্‌ই-মা জা-ই-পরী বুদ, নর্‌ তা কদমশ টু পরী আজ আয়েব বরি বুদ্ধ!

১৬

সর্ধনাশের নেশ।

যে প্রিয়া যাহার বাসে আবাস আমার পরীস্থান, শির থেকে তার চরণকমল পরীর মতন নিখু'তঠাম !

মীর খার কণঠস্বর চড়া, একটু কর্কশ, কিন্তু অসহ নয়) গানের স্থর কেমন বুনো বিষণ্ন; কথাগুলি খাটি ফার্শী-হাফিজের পত্বীর মরণে শোকগাথা।

আমি গান শুনিয়া বলিলাম_-এ ফার্সী গান। আমি আপনাদের দেশী গান শুনিতে চাহিয়াছিলাম।

মীর খা এবার বাহা গাহিল তাহার এক বর্ণও বুঝিতে পারিলাম না। শ্রানয়াছিলাম মীর খা! বেলুচী ব্রানই। তাহার গানের কথা মানে আমি লিখিয়। লইলাম, অনুবাদের ওস্তাদ সত্যেন্্র কবিকে উপহার দিব বলিয়া। বেলুচী কবির গানের কথা বাঙালী কবির কলমে যে রূপান্তর পাইয়াছিল তাহারই কিয়দংশ এখানে পাঠকপাঠিকাদিগকে উপহার দিতেছি--

“তাজ! ঘাসে ভরা ক্ষেত্রের চেয়ে নধর সে কচি মুখ, দু্ধা-মেষের পুচ্ছ জিনিয়া! রমে ডগমগ বুক!

শীর্বৃস্ত কস্থমের মত বায়ুভরে দোলে কায়,

নাগকেশরের পেলব সুষমা সকল অঙ্গে ছায়!

আমি ভাবি মনে__বুঝি তার সনে মিলিব দিনের শেষে, চির-আলোকিত পরীর রাজ্যে”_শত উৎসের দেশে 1”

১৯

সর্বনাশের নেশা টা মীর খা যখন আমাকে ঠা মানে রাই দিন এই

পার্বত্য দেশের কার্বির অমাধারণ করিতে মুগ্ধ হইয়া গেলাম। আমি বলিলাম_ চমৎকার 1% আজব! বৃহৎ ' দিক! ইহা

কোন্‌ ভাষা? জী পা মীরখা গম্ভীর হইয়া কেবল বলিল_“হা সে খঞ্জনী

মাটিতে নামাইয়! রাখিয়া প্রদীপের শিখার দিকে মান বিষণ্ন দৃষ্টিতে চাহিয়া কি ভাবিতে লাগিল। প্রদীপের ক্ষীণ আলোতে তাহার মুখ ভয়ঙ্কর অথচ মহত্বব্যঞ্জক দেখাইতেছিল-_নরকাগ্নির সম্মুখে শফতানের যে বর্ণনা মিল্টন করিয়াছেন, তাহা মনে পড়িয়া গেল। সেই শয়তানের মতন আমার দোস্তও বোধ হয় তাহার কোনো অষ্ট স্বর্গের কথাই ভাবিতেছিল যেখান থেকে তাহার প্রোহিতার পাপ তাহাকে নির্বাসিত বহিষ্কৃত করিয়া দিয়াছে সে ছুটি গান করিল, ছুটি গানেই পরীর মতন সুন্দরী কোন্‌ প্রেয়পীর বন্দনা করিল তাহারই বিরহ বোধ হয় এই বীর দস্থ্যকে কাতর করিয়! তুলিয়াছে।

আমি মীর খাকে কথা কহাইতে চেষ্টা করিতে লাগিলাম, ষদি তাহার কোনে খবর বাহির করিয়া লইতে পারি। কিন্ত সেই না বলিয়াই আমার কথার জবাব দিতে লাগিল, তাহার গল্প করিবার প্রবৃত্তি যেন তিরোহিত হইয়াছিল; সে তাহার ছুঃখময় চিন্তায় যেন ডূবিয়া গিয়াছিল।

রাত হইয়াছিল মাম! মামক দুইজনেই পর্দার আড়ালে গাশের ঘরে শুইতে গিয়াছিল। আমরাও শুইব শুইব মনে

ঘোড়ার আাস্াবলে বাহ বর

সর্বনাশের নেশা

করিতেছি আমার পথপ্রদর্শক বাহ্‌বর আমাকে ভয়ে ভয়ে বলিল_-দাহেব, একবার আস্তাবলে চলুন

এই কথায় মীর থা যেন চম্কাইয়া ঘুম হইতে জাগিয়া উঠিল এবং কর্কশ রূঢ দৃঢ় স্বরে জিজ্ঞাসা করিল__কোথায় যাবে?

রাহবর একেবারে এতটুকু হইয়! কষ্টে বলিল_-আজেঞ, আন্তাবলে।

মীররখখা তেমনি ভাবে বলিল__কেন? ঘোড়াদের দানা পানী ঘাস প্রচুর দেওয়া হইয়াছে। তুমি এইখানেই শোও সাহেব কোনো আপত্তি করিবেন না।

রাহবর আম্‌! আম্তা করিয়৷ বলিল-_ সাহেবের ঘোড়াটার বোধহয় বেমার হ্ইয়াছে। বিদেশে বেগানা মুলুকে ঘোড়া অপটু হইয়া পড়িলে মুস্কিল হইবে সময় থাকিতে কিছু ব্যবস্থা কর! উচিত।

আমি স্পষ্টই বুঝিলাম থে রাহবর আমাকে গোপনে কিছু কথা বলিতে চায়। কিন্তু মীর খাঁর সন্দেহ উদ্রেক করা৷ স্থবুদ্ধির কাজ হইবে না বিষেচনা করিয়া তাহাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করাই কর্তব্য স্থির করিলাম। তাই আমি রাহ বরকে বলিলাম_-আমি সলুত্রী ( শালিহোত্র ) নহি, অশ্বচিকিৎসায় আমার অভিজ্ঞতা কিছুমাত্র নাই; অধিকস্ত আমার ঘুম পাইয়াছে। যাহা হয় কাল নকালে দেখা যাইবে :

মীর খা! বলিল-চলো৷ আমি দেখিতেছি।

মীর খা রাহ বরকে সঙ্গে লইয়া বাহির হইয়া গেল এঘং একটু

২১

সর্ধবনাশের নেশা

পরেই একলা ফিরিয়া আসিল। সে আমাকে বলিল-_-ঘোড়ার কিছুই হয় নাই। ঘোড়ার প্রতি অতিরিক্ত মমতা বশতঃ আপনার রাহবর ঘোড়ার পীড়! আশঙ্কা করিয়া নিজের পাগড়ী দিয়া উহার গা ডলিয়া ডলিয়া উহাকে ঘামাইয়া তুলিয়াছে, এবং সারা রাত সে এমনি ভাবে দলাই-মলাই করিতেই থাকিবে ইচ্ছ৷ করিয়াছে

আমি বুঝিলাম মীর খা! রাহবরকে শাসন করিয়া আসি- মাছে, সে আর আমাকে কিছু বলিবার জন্ত এই ঘরের ব্রিসীমা- নায় আসিতে সাহস করিবে না। আমি কম্বলের বিছানায় একখানা কম্বল টাঁকা দিয়া শুইয়া পড়িলাম; কিন্তু আমার বড় ওভার-কোটটাতে সর্ববাঙ্গ জড়াইয়া ঠিক যেন পাটিসাপ টা হইয়। রহিলাম_যেন কোনোথানে এই সরাইএর শতেক কাবুলির শয়ন-কলুিত অঙ্গ-বাসিত ময়লা কম্বলের সঙ্গে আমার অঙ্গের সংস্পর্শ না ঘটে

মীর খা আমার খুব কাছেই দরজা জুড়িয়া আড়াআড়ি ভাবে বিছানা পাতিতে পাতিতে বলিল-মীফ ফর্মায়েস করিবেন, আপনার কাছ ঘেসিয়! শুইবার গুস্তাকী মাফ করিবেন

ঘরের মধ্যে এত জায়গ! থাকিতেও সে যে আমার বিছানা ঘেসিয়া দরজা জুড়িয়! শুইয়। গুস্তাকী কেন করিতেছে তাহার কোনো কারণ প্রকাশ না করিলেও আমি বুঝিলাম - আমার সক্গে রাহবরের মিলনের পথে বাধা দিবার উদ্দেশ্তেই তাহার এই আচরণ।

সর্বনাশের নেশা

বিছান! পাতিয়া মীর খা বন্দুকট! পরীক্ষা করিয়া দেখিল ষে ছুই নালই ভরা আঁছে কি না, এবং তাহার পর পুরাতন ক্যাপ খুলিয়া লইয়া নৃতন ছুটি ক্যাপ পরাইল ঘোড়া দুটা আস্তে আস্তে ক্যাপের উপর চাপা দিয়া! বন্দুকটা তাহার বালিশের কোলে একেবারে ঘাড়ের তলে রাখিয়া দিল! পাচ মিনিট পরে সে নিক্রাঙ্জড়িত স্বরে আমাকে ভগবানের হাতে সমর্পণ করিয়া রাতের মতন বিদায় চাহিল--“শব-ই-শ্রম! ব-খয়ের 1” আমিও তাহাকে বলিলাম--“আল্‌-স্ম্দউলেন্সা 1” এবং ছুজনেই গভীর নি্রায় অভিভূত হইয়া পড়িলাম |

আমি মনে করিয়াছিলাম আম যেরকম নিজ্রাসিদ্ধ যে- রকম ক্রান্ত হইয়াছি তাহাতে এই নোংরা ছেঁড়া দুর্গন্ধ কম্বলের বিছানাতেও এক ঘুমেই রাত কাবার করিয়া দিতে পারিব। কিন্তু সর্বান্ষে কিসের কামড়ের অস্বস্তিকর চুল্কীনিতে ঘণ্টা! খানেক পরেই আমার ঘুম ভাঙিয়া গেল। কিটিংস্‌ পাউডারের বিজ্ঞাপনে মাত্র পড়িয়াছিলাম পিশুর নাম; আজ সেই স্থবিখ্যাত জীবের সঙ্গে আন্তরিক চাক্ষুষ পরিচয় হইল,_মশা এবং ছারপোকাও প্রচুর ! আমার ঘুম ভাঙার কারণ বুঝিতে পারিয়াই আমি বিছানা ছাড়িয়! উঠিগ্না পড়িলাম এবং বদ্ধ ঘরের মধ্যে মশা পিশু ছাঁরপোকার শিকার হওয়ার চেয়ে খোলা জায়গায় রাত কাটানো শ্রেয় স্থির করিলাম। আমি আমার ওভারকোট রাগ গায়ে জড়াইয়া বেশ করিয়! গুটাইয়া লইয়া মীর খাকে ডিডাইয়া ঘর হইতে বাহির হইয়!

হও

সর্বনাশের নেশ।

গেলাম; সে গভীর নিন্রায় অচেতন ছিল, কিছুই টের পাইল না।

দরজার বাহিরে একখানা কাঠের বেঞ্চ ছিল; আমি তাহারই উপরে শুইয়া পড়িলাম এবং আর-একবার ঘুমাইবার চেষ্টায় চোখ বুজিতে যাইতেছি, মনে হইল একটা লোকের একটা! ঘোড়ার ছায়৷ নিঃশব্দে আমার সম্মুখ দিয়া চলিয়া যাইতেছে__ যেন মান্ুষতৃত ঘোড়াভূত ছায়াশরীরে নিঃশব্দে বিচরণ করিতেছে!

মাষের ছায়া! যেন রাহ বরের বলিয়া মনে হইল। এই গভীর রাত্রে তাহাকে ঘোড়া টহল করিতে দেখিয়া আশ্চরধ্য হইয়া আমি লাফাইয়। উঠিলাম এবং তাহার নিকটে অগ্রসর হইলাম। সে আমাকে দেখিয়া দাড়াইল। আমি নিকটে গেলে সে চাঁপা স্বরে চুপিচুপি জিজ্ঞাসা করিল-_রাহজান্টা কোথায়?

আমি বলিলাম-__ঘরে, ঘুমাইতেছে, মশা পিশু ছারপোকা তাহার ঘুমের কাছে হার মানিয়াছে। কিন্তু তুমি এত রাত্রে ঘোড়া টহলাইতেছ কেন?

রাহবর চকিত দৃষ্টিতে একরার ঘরের দিকে তাকাইয়। চাপা গলায় বলিল-_খোদার কসম্‌ আস্তে কথা কও সাহেব! তুমি জানে! না অবতারটি ফে! মীর খাঁ বেলুচিন্তান থেকে ওয়াজিরিস্তান পধ্যস্ত ইংরেজ মুলুকের সীমায় সীমায় সারা কুহিন্তানে ( পাহাড়িয়! দেশে ) সে রাহাজানী করিয়া নামজাদা হইয়াছে।-আমি সারা দিন তোমাকে কত ইসারা করিলাম,

২৪

সর্বনাশের নেশ।

কিন্ত তোমার মোটা বুদ্ধিতে তাহার একটারও অর্থবোধ হইল ন!।

আমি হাসিয়া বলিলাম__ডাকাতই হোক আর দাধুই হোক, তাহাতে আমার কি? দে আমার কিছু লুট করে নাই, লুট করিবার ইচ্ছাও তাহার নাই, আর লুট করিবার মতন লোভনীয় সামগ্রীও আমার সঙ্গে কিছু নাই।

রাহবর বলিল কোনো লোভনীয় মাল্‌ ঘে তোমার সঙ্গে নাই তাহা! আমাদের নসিবের জোর বলিতে হইব; আরও নসিবের জোর বলিতে হইবে যে আমর! তাহার দেখা পাইয়াছি _উহার গেবেধারীর জন্য পাচ হাজার বূপেয়া ইনাম বখশিশ, কবুল করা আছে জানো? মাইল ছুই দূরে মিলিটারী পুলিশের থানা আছে ; ভোর না হইতে আমি কতকগুলি জবর্- দন্ত গোলান্নাজ নওয়ার এখানে আনিয়া হাজির করিব। ওর ঘোড়াটা আমি লইয়া যাইতাম__ খুব তেজী আছে, কিন্ত সেটা এমনি বদ্মায়েস ঘে তাহার মালিক ছাড়া অপরকে কাছে ঘেসিতেও দেয় না।

আমি বলিলাম_- কী শয়তানী তোমার ! বেচার! তোমার কোন্‌ ক্ষতি করিয়াছে যে তুমি তাহাকে ধরাইয়া দিতে যাইতেছ?

সে বলিল-ক্ষতি করে নাই বলিয়াই ধরাইয়। দিভে যাইতে পারিতেছি-_ডাকাতের ক্ষতি করা মানে প্রাণে মারা ! অধিকন্তু ডাকাতটাকে ধরাইয়া দিলে আমার পাঁচ হাজার রূপেয়া নফা হইবে!

চি

সর্বনাশের নেশ!

কিন্ত ওই যে ডাকাত মীর খাঁ তাহা তুমি কেমন করিয়া! জানিলে?

_ নিশ্চয় ওই যে তাহাতে আর কোনো সন্দেহ নাই। সে আমার সঙ্গে আন্তাবলে গিয়৷ আমাকে শাসাইয়া বলিল-_“তুমি আমাকে চেন মনে হইতেছে যদি তুমি সাহেবকে আমার পরিচয় জানাইয়া দাও তাহা হইলে তোমার টু'টি ছি'ড়িয়া ফেলিব ইয্াদ রাখও 1” আপনি উহার কাছে থাকুন সাহেব, আপনার কোনো তরান নাই, আর আপনি উহার কাছে থাকিলে কিছু সন্দেহও করিবে না।

আমরা কথা বলিতে বলিতে সরাই হইতে অনেক দূরে চলিয়। আসিয়াছিলাম। রাহবর নত হইয়া ঘোড়ার পায়ের কাছে কি করিতে লাগিল। দেখিলাম ঘোড়ার খুরের শব্ধ রোৌধ করিবার জন্য সে নিজের পাগড়ী ছিড়িয়।৷ ঘোড়ার চার পায়ের তলায় কাপড়ের গদি বাধিয়া দিয়াছিল। এখন দূরে আসিয়াছে, সরাই হইতে ঘোড়ার খুরের শব আর শোনা যাইবে না বলিয়! সে সেই গদিগুলি খুলিয়৷ ফেলিতেছে। আমি তাহার বুদ্ধির পরিচয়ে বিস্ময় সাম্লাইয়। কিছু বলিবার আগেই সে চক্ষের পলকে ঘোড়ার পিঠে উঠিয়। বসিল ঘোড়া ছুটাইয়৷ দিবার উপক্রম করিল। আমি তাহাকে নিরস্ত করিবার জন্য মিনতি করিলাম, ভয় দেখাইলাম, তাহাকে জোর করিয়া টানিয়া রাখিতে চাহিলাম।

কাবুলী পাঠানকে ধরিয়া রাখিবার বল অজীর্ণরোগজীর্ণ

খ্৬

সর্বনাশের নেশ।

বালী আমার ছিল না। সে. অতি সহজে আমার হাত ছাড়া- ইয়া মিনতি স্বরেই বলিল__আমি গরীব আদ্মী সাহেব, এক খ্বোকে পাচ হাজার রূপেয়ার লোভ আমি ছাড়িতে পারি না; কাম এই সারা মূলুকের ভয়ের কারণ দূর করিয়া বখশিশ উপার্জন করিব--আমি কোনো মন্দ কাজ গুনাহ গারী করিতে ফহিতেছি না। আমার এখন ফিরিয়া যাওয়াও নিরাপদ নয়। পনি সাবধান থাঁকিবেন !

সু পাজীটা ঘোড়া ছুটাইয়া পাহাড়ঘেরা গভীর অন্ধকারে গেল।

আমি আমার রাহবরের আচরণে অত্যন্ত বিরক্ত বোধ রি লাগিলাম, এবং ভয়ও কম হইল না৷ মীর খা আমাকে সন্দেহ করিলে সর্বনাশ ! এক মুহূর্তের চিন্তাতেই স্থির করিয়া ক্কেলিলাম আমার এখন কর্তব্য কি।

আমি সরাইখানায় ফিরিয়া আসিলাম। মীর খা তখনও নিদ্রায় নিমগ্র-বহুদিনের জাগরণ অনশন পধ্যটন গের ক্লান্তিতে আজ বেচারা একেবারে অবসন্ন হইয়! পড়ি- ছ। আমি তাহাকে ডাকিলাম_-আঘা। সাহেব, আছ হব! খা সাহেব ! খখ জী! সাড়া নাই। ভয়ে ভয়ে গায়ে হাত দিয়া নাড়া দিলাম। কু অসাড় তখন ছুই হাতে ধরিয়া তাহাকে টানিতে টানিতে ভাকিলাম--আঁঘ! সাহেব ! খ]! সাহেব ! এইবার সে তড়াক করিয়া উঠিয়া বসিয়াই যেখানে তাহার

3 রা

সর্বনাশের নেশা

বন্দুক ছিল সেখানে চিলের ছে! মারার মতন হাত দিল। আমি সাবধান হইয়া আগেই বন্দুক সেখান হইতে সরাইয়া রাখিয়া- ছিলাম। সে বন্দুক না পাইয়া যে ভীষণ ভ্রকুটি করিয়া আমার দিকে চাহিয়া! লাফাইয়া উঠিল তাহা আমি জীবনে কখনো! ভুলিব না_সে মৃত্তি ভঙ্গী মনে করিলে এখনও আমার হ্ৃবৎকষ্প হয়_-বাঘ যেন তাহার শিকারের টু টি ছি'ড়িতে উদ্াত হইয়াছে।

আমি ছু পা হটিয়া পিছাইয়া গিয়া ভয়জড়িত স্বরে বলিলাম -মাফ করিবেন খণ সাহেব, আপনার ঘুম ভাঙাইয়াছি। একটা ছোট্র প্রশ্ন আপনাকে জিজ্ঞাসা করিবার আছে--আধ ডজন গোলান্দাজ সওয়ার এখানে আসা আপনি পছন্দ কবিবেন?

সে বাঘের মতন গঞ্জন করিয়া উঠিল--এ কথা আপনাকে কে বলিল?

.. উপদেশ থাহার কাছ থেকেই আন্থক না কেন, ভালো হইলেই হইল।

_ আপনার রাহবর আমার সঙ্গে প্রতারণা করিয়াছে আছ, এর মজা সে টের পাইবে সে হারামজাদ কোথায়?

আমি ঠিক জানি না।

--তবে কে বলিল? মামা বোধ হয়।

আমাদের চেঁচামেচি গোলমালে মামার ঘুম ভাঙ়িয়া গিয়া- ছিল, সে ভয়ে ভয়ে তাহার বলিকুঞ্চিত প্রকাণ্ড মুখখানা পর্দার ফাকে রাখিয়া! আমাদের দেখিতেছিল, থা গুনিতেছিল। মীর খার মুখে ভাহার নাম উল্লেখ শুনিবা মাত্রই নেই মুখখান।

২৮

সর্ধ্বনাশের নেশ। ভয়ে কদরধ্যতর হইয়া পর্দার পাশে সরিয়া গেল। আমি তাহার ঘরের দিকে মুখ করিয়। দাড়াইয়া ছিলাম এবং মীর খা ছিল সেদিকে পিছন ফিরিয়া-_-আমি মামাকে দেখিতে পাইলাম, কিন্ত মীর খ। পাইল না।

আমি বলিলাম__না, মামা আমাকে কিছু বলে নাই। কে বলিয়াছে শুনিবার জন্য বিলম্ব না করিয়া আমার কথা শুন্থুন-_ গোলান্নাজ সওয়ার হইতে আপনার যদি কোনো ভয়ের কারণ থাকে তবে আর সময় নষ্ট করিবেন না; আর যদি ভয়ের কোনো কারণ না থাকে তবে নিশশিম্ত হইয়! শুইয়া পড়,ন--আপনার থুম ভাঙাইয়াছি, আমাকে মাফ করিবেন

-_রাইবর ! রাহন্তুমা !_-প্রথমেই আমি তাহাকে সন্দেহ করিয়াছিলাম। তাহার সঙ্গে আমার বুঝাপড়া একদিন হইবে। এখন সাহেব তবে বিদীয়--খোদা হাফিজ ! আমার এই উপকার করার দরুন আলা আপনাকে পুরস্কার করিবেন। আপনি যেমন শুনিয়াছেন বা ধারণা করিয়াছেন আমি তেমন খারাপ লোক নই) আমার চরিত্রে এখনো! এমন কিছু আছে যাহার জন্ পৎ সাহসী লোকে আমার সঙ্গে হম্দরুদী করিতে পারে আমার এক আফ শোষ রহিয়া যাইবে যে আমি আপনার কাছে চিরখণী হইয়াই থাকিব, খণ পরিশোধের কোনো! উপায়ই পাইব না। খোদা! হাফিজ, সাহেব, খোদা হাফিজ!

আমি তাহার কথায় ব্যথিত হইয়া বলিলাম_খী' সাহেব, আমার খণ তাহা হইলেই শোধ করা হইবে যদি আপনি

সর্বনাশের নেশা

কাহাকেও সন্দেহ করিয়া কাহারো কোনো অনিষ্ট না করেন, প্রতিহিংসা মনে পোষণ করিবেন না। আপনার পাথেয় এই নিন কিছু চুরুট কিছু টাকা-_খোদা হাফিজ

আমি চুরুট টাকা স্ুদ্ধ হাত তাহার দিকে বাড়াইয়া দিলাম। সে মাত্র একুটি চুরুট তুলিয়া লইয়া সেলাম করিল এবং নীরবে আমার হাত ছুই হাতে চাপিয়া ধরিয়া বিদায় লইল। তার পর তাহার ব্যাগট। গলায় ঝুলাইয়া বন্দুকটা তুলিয়া লইয়। বৃদ্ধাকে কিছু চার কথা বলিল তাহা! আমি বুঝিতে পারিলাম না। সে তাড়াতড়ি আন্তাবলের দিকে চলিয়া গেল এবং কয়েক মিনিট পরেই শুনিলাম তাহার ঘোড়া উর্দস্বাসে ছুটিয়। পাহাড় প্রতিত্বনিত করিয়া দূর দূরাস্তে চলিয়া যাইতেছে।

আমি সরাইয়ের বাহিরে বেঞ্চে গিয়া বসিলাম, কিন্তু আর ঘুম আসিতেছিল না। আমি নিজেকে প্রশ্ন করিতে লাগিলাম__ ডাকাতকে রক্ষা করা আমার ন্থায়সঙ্গত কার্য হইল কি? কত লোককে সে লুণ্ঠন করিয়া সর্বস্বান্ত করিয়াছে, কত লোকের প্রাণ নষ্ট করিয়াছে, তাহাকে দণ্ডের হস্ত হইতে অপসারিত করিয়া স্থকম্ম করিলাম কি? হয়ত আমার রাহবর আইনের সহায়তা করিতে গিয়া আমার জন্য বিপন্ন হইল। মে লোকটা হতাশ হইয়া হয়ত আমারই উপর প্রতিহিংসা লইবে। এবং পরে যত ডাকাতি খুনখারাপী হইবে তাহার জন্য দায়ী হইব আমি, পাপ হইবে আমার! কিন্তু বিপন্নকে উদ্ধার না করিয়া নিশ্চিন্ত থাকা কি মন্গম্তত্ব? এই যে মানুষের দয়াপ্রবণতা,

সর্বনাশের নেশ। কি সব সময় যুক্তিতর্ক মানিয়। পাঁজিপুথি দেখিয়া কাজ

করে?

এইকপ প্রশ্নের পর প্রশ্ন করিয়! দ্বিধায় দোছুল্যমান চিত্বকে যখন স্থির করিয়া আনিতেছিলাম, দেখিলাম রাহবর ছয় জন সওয়ার লইয়! সন্তর্পণে সরাই ঘেরাও করিয়া দড়াইয়াছে, সে নিজে সকলের পিছনে দূরে আছে। আমি উঠিয়া তাহাদের নিকটে গেলাম, এবং তাহাদিগকে খবর দিলাম যে মীর খা ছু ঘণ্টা হইল প্রস্থান করিয়াছে।

ফৌজদার মামাকে ডাকাতের সন্ধান জিজ্ঞাসা করিল। সে বলিল সে কিছুই জানে না। ফৌজদারের জেরায় সে বলিল__ মেমীর খাকে চেনে বটে; কিন্তু অবলা সে, একলা থাকে, সেইজন্য ভয়ে সে তাহার গতিবিধির কোনো খবর ফৌজদার সাহেবকে দিতে পারে না। মীর খা মাঝে মাঝে তাহার সরাইয়ে আসিয়া আশ্রয় ল় এবং মাঝরাত্রেই সে চলিয়া যায়।

আমাকে জেরায় জের্বার করিতে করিতে ফৌজদাঁর থানায় লইয়া গেল এবং আমার সঙ্গে মীর খাঁর যোগ-সাজুশের কোনো প্রমাণ না পাইয়া আমাকে ছাড়িয়া দিল। কিন্ত রাহ্বরের মন আমার প্রতি অপ্রপন্ন বিরূপ হইয়াই রহিল-_ আমিই ঘে তাহাকে রোক পাঁচ হাজার টাকা হইতে বঞ্চিত করিয়াছি সে সম্বন্ধে তাহার দৃঢ প্রত্যয় হইয়াছিল। যাহাই হোক, আমি তাহাকে বিদায় দিবার সময় আমার সাধ্যমত পুরস্কার দিয়া তাহাকে সন্তষ্ট করিয়া দিয়াছিলাম।

৩১

সর্বনাশের নেশ।

আমি কাবুল দেখিতে যাইব বলিয়। একদল সিম্ধী পেশোয়ারী বণিকের কাফেলার সঙ্গে জুটিয়া গেলাম খাইবার- পাস্‌ পার হইয়া আফগানিস্তানের সীমান্তে খাইবার-পাসের ঘাটি ডাকা শহরে পৌছিলাম। কিন্তু আমাকে কাবুলীরা ইংরেজের প্রপ্তচর মনে করিয়! কাবুলে প্রবেশ করিবার অনুমতি দিল না। আমাকে ডাকা! হইতেই আবার জম্রুদে ফিরিতে হইবে। ভারত আফগানিস্তান দুরারোহ ছুলগ্ঘ্য পর্বত-গ্রাচীর দ্বার! পৃথকৃরুত, কেবল খাইবার-পাস্‌ নামে ছুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়া একটা শু'ড়ি পথ উভয় দেশে যাতায়াতের একমাত্র সহজ উপায়; এই শুড়ি পথের ছুই মুখে ছুই শহর-_ভারতণ্রান্তে জম্রুদ্‌ আফগানিস্তান-প্রান্তে ডাকা কেল্লা কামান সাজাইয়! ঘাটি আগলাইয়া আছে। এই পথ দিয়াই গ্রীকেরা ভারতে আসিয়াছিল, মুসলমান বিজেতারা আসিয়াছিল, মগ শ'কদীপী ্রাহ্মণেরা আসিয়াছিল; এই পথ ইতিহাঁস-প্রসিদ্ধ। প্রত্যেক বংসর লক্ষাধিক বণিকৃ বিবিধ পণ্যসম্ভারে বোঝাই করা হাজার হাজার উট ঘোড়া খচ্চর লইয়া! এই পথে যাতায়াত করে; বাংলায় বসিয়া যে মেওয়! আমরা খাই তাহা! এই পথে আসে। কত ইরাণী তুরাণী এই পথে ভারতে আসিয়াছে। এই ভারত- গ্রবেশের প্রসিদ্ধ একমাত্র সিংহদার সপ্তাহে ছুই দিন--মঙ্গল শুক্রবার- উন্মুক্ত থাকে ; কিন্ত গ্রীষ্মকালে তাহাও এক শুক্রবার

৩২

108৯০ ৯৭৮.

সর্ধনাশের নেশা ছাড়া অন্য দিন খোল! থাকে না। যে-সকল লোক আফ গানি- স্তানে প্রবেশ করে তথ। হইতে প্রন্যাগমন করে, আফগান্‌ রাজকশ্মচীরীগণ তাহাদিগকে বিশেষ পরীক্ষা অগ্ুসন্ধান করিয়া ছাড়পত্র রাহদরারী দেন। আমি ছাড়পত্র পাইলাম না--আমি বণিক্‌ নহি, তবে শুধু শুধু কাবুলে যাইবার উদ্দেশ্য খারাপ, আমার কিছু বদ্মধলব নিশ্চয়ই আছে, এই সন্দেহে গ্রীষ্মকাল শুক্রবার ডাক্কায় পৌছিয়াছি। ফিরিবার জন্য আগামী শুক্রবার পধ্যন্ত ভাক্কা শহরেই আমাকে অপেক্ষা করিতে হইবে হিন্দু- কুশ পর্বতের পাদমূলে কাবুল-নদীর তীরে এই শহ্র। একদিন সন্ধ্যাবেল। আমি কাবুল-নদীর তীরে এক পাথরের উপর বসিয়। এই পার্ধত্য দেশের সৌন্দর্য উপভোগ করিতে- ছিলাম; যুগ-যুগান্তরের ইতিহাস আমার মনের মধ্যে ভিড় করিয়া জাগিয়া উঠিতেছিল। এই কাবুল-নদী বৈদিক আধ্য অতিবুদ্ধপ্রপিতামহদের নিকট কুভা-নামে পরিচিত ছিল ইহারই নিকটের এই হিন্দুকুশ হয়ত তাহাদের োমজনক মৃজবান্‌ পর্বত! ইহার তীরে কত সোম অভিযুত হইয়াছে, কত সোম- য্ঞ অনুষ্ঠিত হইয়াছে আজ তাহাদের সভ্যতার ধারা এদেশ হইতে একেবারে লুপ্ত হইয়া গিয়াছে, এখন এখানে স্থদূর আরবের সভ্যতার ধার অসভ্য বর্ধরতার সহিত সংযিশ্রিত হইয়া রহিয়াছে হঠাৎ দেখিলাম নদীগর্ভ, হইতে একটি তরুণী রমণী ধীরে ধীরে উপরে উঠিয়া আসিতেছে তাহাকে দেখিয়া দেবী

৩৩

সর্ধনাশের নেশ।

গাদ্ধারীকে মনে পড়িল, পার্বতী উমা হৈমবতীকে মনে পড়িল! রমণীর পরণে শুভ্র বস্ত্র পেশোয়াজ, চুনারী কাপড়ের ঘাঘরা, লম্বা আস্তিনের ঢোলা কুর্ভী, মাথায় জরিদার ফিরোজা রডের ওড় নার ঘোম্টায় মুখ ঢাকা, পায়ে তাহার জরিদার চাপলি জুতা। তরুণী আসিয়া একেবারে আমার পাশে আর-একখানা পাথরের উপর বসিল ঘোম্টা খুলিয়া ওড়না ঘাড়ের পিছনে পিঠের উপর ঝুলাইয়! দিল। দেখিলাম সে তরুণী সুন্দরী সুঠাম তাহার চোথ ছুটি বড় বড় টানা টানা দীর্ঘ ুষ্ণ পন্ষরজালে আচ্ছন্ন। তাহার মাথার চুল ঘন রুষ্ মাথার মা;খানে সিঁথি কাটা, কালো! রেশমীস্ত্রে জরির কাজ করা জাদ দিয়া বেণী বীধা, মন্তকের উভয় পার্থে কানের উপরকার জুল্ফি কুঞ্চিত ঝালর-কাটা-_-বিবাহিতা! রমণীর চিহ্ন। তাহার বেণীতে একগুচ্ছ হেনার মগ্জরী গৌজা_ তাহা হইতে তীব্র স্থগন্ধ সেখানকার বাতাসকে যেন মথিত করিয়া তুলিতেছে; ভাহার দুই জুল্ফিতে ফাস-বীধা পাতা-স্থদ্ধ ছুই গুচ্ছ আনার-কলি-_বেদানা ডালিমের লাল টুকটুকে পেলব-পল্পব ফুল সরু সরু সবুজ পাতার ঝালরের মধ্যে বড় সুন্দর দেখাইতেছিল। পর-পুরুষের সম্মুখে অবগ্তষ্ঠন উন্মোচন করা আফগান রমণীদের রীতি নয়; তবে যাযাবর জাতিরা এই আবরু রক্ষা করিতে পারে না বলিয়াই প্রথা তাহার! পালন করে না। এই সুন্দরী হয় যাযাবর জাতির, নয় ভালো লোক নয়। কিন্ত, তাহার জুল্ফি ঝালরকাটা--সে বিবাহিত। সে যেই হোক, একে মহিল! তায় সুন্দরী তরুণী, আমি তাহাকে খাতির করিয়া

০০

সর্বনাশের নেশ।

আমার মুখের চুরুটটা ফেলিয়া দিয়া তটস্থ হইয়া ভব্য ভাবে বলিলাম_-সেলাম আলেকম,- খানম!

তরুণী রূপসী রূপার পাত্রে ঝর্ণাঝরার শব করিয়া বলিল-_ আলেকম সেলাম সাহেব আপনি অমন স্বন্দর চুরুটটা ফেলিয়া দিলেন কেন? আমি তাশ্বাকুর খুশকু পসন্দ কবি-আমি তাশ্বাকু পিয়া থাকি।

আমি তাড়াতাড়ি একটা খুব নরম সিগারেট বাছিয়! বাহির করিয়া তাহাকে দিলাম, এবং দেশলাই . জালিয়া ছুই হাতের খোলের মধ্যে শিখার্টকে জলো৷ হাওয়ার আক্রমণ হইতে বাচাইয়! হুন্দরীর মুখের কাছে ধরিলাম; পার্বতী তাহার মুখ- থানি আমার দিকে ঝুঁকাইয়া শিখাতে চুরুট ধরাইতে লাগিল; দেশলাইএর শিখার আলোতে তাহার মুখখানি উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল এবং ক্ষণে ক্ষণে চুরুটের টানে টানে শ্রিখা উজ্জলতর হইয়া উঠিয়া তাহার মুখের উপর ক্ষণপ্রভার খেলা ফুটাইয়া তুলিতে লাগিল। আমি সেই আলোকে অতি নিকটে তাহার মুখখানি ভালো করিয়! দেখিয়া লইলাম-_-তাহার ললাটতট যেন একাদশীর খগ্ুশশী, তাহার নাকটি যেন হাতীর দাতের তৈরী বাশী, তাহার চোখছুটি যেন স্বচ্ছললিল সরোবর, তাহার ঠোট ছুখানি যেন খোসা-ছাড়ানে! কাগজী বাদাম, তাহার দীতগুলি ঘেন কুন্দফুলের মালা, তাহার জুল্ফির ফাশে ঝোলানো ভালিমফুলের লালিমা- লাগ! গাল ছুটি যেন পাকা সেব,তাহার চিবুকটি যেন সফেদ-কোহ, পাহাড়ের তুষারাচ্ছন্ন চূড়া, তাহার কান ছুটি যেন মুক্তাজননী

৫৫

সর্বনাশের নেশা

শুক্তির ছুখানি খোল, তাহার কণ্ঠ যেন শঙ্খ, তাহার আঙ্লগুলি যেন কনকটাপার কলি,তাহার সমস্ত মুখখানি যেন পল্পব্দল- বেটিত বড় একটি বসোরা৷ গোলাপ !

আমরা পাশাপাশি ছুই পাথরে বসিয়া; নীচে বক্র অসি- ধারার ন্যায় নদী, উপরে নক্ষত্রপুপ্জ, আমাদের উভয়কে বেষ্টন করিয়া নক্ষত্রালোক-মিশ্র স্বচ্ছ তরল অন্ধকার-যেন একখানি জরির পোড়েন রেশমের টান! দিয়া বোনা পাতলা উত্তরীয় উভয়ে ভাগাভাগি করিয়া গাষে দিয়া জগৎকে আড়াল করিয়া বসিয়!